মুজিবনগর সরকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মুজিবনগর সরকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশর ঘোষণাপত্র

Written By James on মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০১৪ | ৯:৫৫ PM

স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশর ঘোষণাপত্র
১০ এপ্রিল ১৯৭১
মুজিবনগর, বাংলাদেশ

যেহেতু ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হইয়াছিল;

এবং

যেহেতু এই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় ১৬৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিল;

এবং

যেহেতু জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সনের ৩রা মার্চ তারিখে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধিবেশন আহ্বান করেন; 

এবং

যেহেতু তিনি আহূত এই অধিবেশন স্বেচ্ছার এবং বেআইনীভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন;

এবং

যেহেতু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করার পরিবর্তে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পারষ্পরিক আলোচনাকালে ন্যায়নীতি বহির্ভূত এবং বিশ্বাসঘাতকতামূলক যুদ্ধ ঘোষণা করেন;

এবং

যেহেতু উল্লিখিত বিশ্বাসঘাতকতামূলক কাজের জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান;

এবং

যেহেতু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বর্বর ও নৃশংস যুদ্ধ পরিচালনা করেছে এবং এখনও বাংলাদেশের বেসামরিক ও নিরস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন গণহত্যা ও নির্যাতন চালাচ্ছে;

এবং

যেহেতু পাকিস্তান সরকার অন্যায় যুদ্ধ ও গণহত্য এবং নানাবিধ নৃশংস অত্যাচার পরিচালনার দ্বারা বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিদের পক্ষে একত্রিত হয়ে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব কে তুলেছে;

এবং

যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপর তাদের কার্যকরি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে;

সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন সে ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আমাদের সমবায়ে গণপরিষদ গঠন করে পারষ্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে

বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা করছি এবং এর দ্বারা পূর্বাহ্নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করছি;

এবং

এতদ্বারা আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন;

এবং

রাষ্ট্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন; ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতাসহ সর্বপ্রকার প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতার অধিকারী থাকবেন;

এবং

তাঁর কর ধার্য ও অর্থব্যয়ের ক্ষমতা থাকবে;

এবং

বাংলাদেশের জনসাধারণের জন্য আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতারও তিনি অধিকারী হবেন।

বাংলাদেশের জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, কোন কারণে যদি রাষ্ট্রপ্রধান না থাকেন অথবা যদি রাষ্ট্রপ্রধান কাজে যোগদান করতে না পারেন অথবা তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে যদি অক্ষম হন, তবে রাষ্ট্রপ্রধান প্রদত্ত সকল দায়িত্ব উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পালন করবেন। আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, বিশ্বের একটি জাতি হিসাবে এবং জাতিসংঘের সনদ মোতাবেক আমাদের উপর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তেছে তা যথাযথভাবে আমরা পালন করব। আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, আমাদের এই স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সনের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, আমাদের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য আমরা অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলীকে যথাযথভাবে রাষ্ট্রপ্রধান ও উপ-রাষ্ট্রপ্রধানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য দায়িত্ব অর্পণ ও নিযুক্ত করলাম।

স্বাক্ষর: অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী

বাংলাদেশ গণপরিষদের ক্ষমতা দ্বারা

এবং ক্ষমতাবলে যথাবিধি সর্বাধিক ক্ষমতাধিকারী।

আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ ১৯৭১

বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে প্রদত্ব ক্ষমতাবলে একটি দিনে আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ নামে একটি আদেশ জারি করেন। ঘোষণাপত্রের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা রক্ষার্থে এই আদেশ বলবৎ করা হয়।
পূর্ণ বিবরণ

আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ ১৯৭১

মুজিবনগর, বাংলাদেশ, ১০ এপ্রিল ১৯৭১, শনিবার ১২ চৈত্র ১৩৭৭

আমি বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে এ আদেশ জারি করছি যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একইভাবে চালু থাকবে, তবে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য করা যাবে। এই রাষ্ট্র গঠন বাংলাদেশের জনসাধারণের ইচ্ছায় হয়েছে। এক্ষণে, সকল সরকারি, সামরিক, বেসামরিক, বিচার বিভাগীয় এবং কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী যারা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেছেন, তারা এতদিন পর্যন্ত নিয়োগবিধির আওতায় যে শর্তে কাজে বহাল ছিলেন, সেই একই শর্তে তারা চাকুরিতে বহাল থাকবেন। বাংলাদেশের সীমানায় অবস্থিত সকল জেলা জজ এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সকল কূটনৈতিক প্রতিনিধি যারা অন্যত্র অবস্থান করছেন, তারা সকল সরকারি কর্মচারীকে স্ব স্ব এলাকায় আনুগত্যের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন।

এই আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়েছে বলে গণ্য করতে হবে।

স্বাক্ষর:- সৈয়দ নজরুল ইসলাম

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি


৯:৫৫ PM | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

বাংলাদেশ এর স্বাধীনতা সময় হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের নাম এবং মেয়াদকাল

Written By James on বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০১৪ | ৭:৩৪ PM

বাংলাদেশ এর স্বাধীনতা সময় হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি'দের নাম এবং মেয়াদকাল।

১) শেখ মুজিবুর রহমান
(মেয়াদকাল ১৭-০৪-৭১ থেকে ১২-০১-৭২ ইং)

সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত)
(মেয়াদকাল ১৭-০৪-৭১ থেকে ০৯-০১-৭২ ইং)

২) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
(মেয়াদকাল ১২-০১-৭২ থেকে ২৪-১২-৭৩ ইং)

৩) মোহাম্মদ উল্ল্যাহ
(মেয়াদকাল ২৪-১২-৭৩ থেকে ২৫-০১-৭৫ ইং)

৪) শেখ মুজিবুর রহমান
(মেয়াদকাল ২৫-০১-৭৫ থেকে ১৫-০৮-৭৫ ইং)

৫) খন্দকার মোস্তাক আহম্মেদ
(মেয়াদকাল ১৬-০৮-৭৫ থেকে ০৬-১১-৭৫ ইং)

৬) বিচারপতি এ এস এম সায়েম
(মেয়াদকাল ০৬-১১-৭৫ থেকে ২১-০৪-৭৭ ইং)

৭) জিয়াউর রহমান
(মেয়াদকাল ২১-০৪-৭৭ থেকে ৩০-০৫-৮১ ইং)

৮) বিচারপতি আবদুস সাত্তার
(মেয়াদকাল ৩০-০৫-৮১ থেকে ২৩-০৩-৮২ ইং)

০৯) বিচারপতি এ এফ এম আহসান উদ্দিন চৌধুরী
(মেয়াদকাল ২৪-০৩-৮২ থেকে ১০-১২-৮৩ ইং)

১০) হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ
(মেয়াদকাল ১০-১২-৮৩ থেকে ০৬-১২-৯০ ইং)

১১) বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ
(মেয়াদকাল ০৬-১২-৯০ থেকে ০৯-১০-৯০ ইং)

১২) আবদুর রহমান বিশ্বাস
(মেয়াদকাল ০৯-১০-৯১ থেকে ০৯-১০-৯৬ ইং)

১৩) বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ
(মেয়াদকাল ০৯-১০-৯৬ থেকে ১৪-১১-০১ ইং)

১৪) এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী
(মেয়াদকাল ১৪-১১-০১ থেকে ২১-০৬-০২ ইং)

১৫) ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার (অস্থায়ী)
(মেয়াদকাল ২১-০৬-০২ থেকে ০৬-০৯-০২ ইং)

১৬) অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমদ
(মেয়াদকাল ০৬-০৯-০২ থেকে ১২-০২-০৯ ইং)

১৭) জিল্লুর রহমান
(মেয়াদকাল ১২-০২-০৯ থেকে ২০-০৩-১৩ ইং)

১৮) আবদুল হামিদ
(মেয়াদকাল ১৪-০৩-২০১৩ ইং থেকে বর্তমানে চলছে)
৭:৩৪ PM | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

মুজিবনগর দিবস আজ

Written By James on বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৩ | ১০:১৪ AM


আজ ১৭ এপ্রিল ২০১৩
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে এক ঐতিহাসিক দিন।
যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করার জন্য সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ এডভোকেট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে মেহেরপুরে মুজিবনগর দিবস উদযাপনের সকল প্রস্তুতিও ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া জেলার তদানীন্তন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। তখন মেহেরপুর মুক্ত এলাকা ছিল। ইতিপূর্বে ১০ এপ্রিল এমএনএ ও এমপিদের কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা ও পাক হানাদার বাহিনীকে আমাদের স্বদেশ ভূমি থেকে বিতাড়িত করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত এবং নির্দেশিত পথে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনের জন্য এই সরকার গঠন করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এইচএম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তদানীন্তন কর্নেল এমএজি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে ১০ এপ্রিল গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। এই ঘোষণার ৬ষ্ঠ অনুচ্ছেদে বলা হয় বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং বাংলাদেশের অখ-তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। ও নবম অনুচ্ছেদে বলা হয় যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ¬øবী কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপর তাহাদের কার্যকরী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করিয়াছে। সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকার বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়াছেন সেই ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আমাদের সমবায়ে গণপরিষদ গঠন করিয়া পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা আমাদের পবিত্র কর্র্তব্য- সেইহেতু আমরা বাংলাদেশকে রূপায়িত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করিতেছি এবং উহা দ্বারা, পূর্বাহ্নে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করিতেছি। এতদ্বারা আমরা আরো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতেছি যে, শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন। রাষ্ট্্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদেও অধিষ্ঠিত থাকিবেন। রাষ্ট্রপ্রধানই সর্বপ্রকার প্রশাসনিক ও আইন-প্রণয়নের ক্ষমতার অধিকারী। নবজাত রাষ্ট্রের এই সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা লাভের অদম্য স্পৃহায় মরণপণ যুদ্ধে লিপ্ত সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক জনসাধারণ ও দেশি-বিদেশি সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও নবগঠিত সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান সেনাপতি ভাষণ দেন। এমনিভাবেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সংসদের নেতৃত্বে একটি সাংবিধানিক সরকারের জগৎ সভায় আত্মপ্রকাশ করে। এই সরকার গঠনের ফলে বিশ্ববাসী স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামরত বাঙালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুজিব নগর সরকার গঠন বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবগাথা সাফল্যের স্বাক্ষর বটে। এই ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত দিনটিকে প্রতিবারের ন্যায় সমগ্র দেশবাসীর সাথে একত্রিত হয়ে এবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে স্মরণ ও পালন করবে।

মুজিবনগর সরকার


অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ এডভোকেট-এর বাণীঃ দিবসটি উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ এডভোকেট বলেছেন ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আমি দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। আমি এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আরো স্মরণ করি জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে যাদের নেতৃত্বে মুজিবনগর সরকার পরিচালিত হয়েছিল। সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করি স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক সংগঠকসহ সকল স্তরের জনগণকে আমি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। তিনি বলেন, আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৭১ সালে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে মুজিবনগর সরকার শপথ নেয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাসহ বিশ্ব দরবারে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টি এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার পরিচালনায় নবগঠিত এ সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সরকারের যোগ্য নেতৃত্ব ও দিক নির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধ দ্রুত সফল পরিসমাপ্তির দিকে এগিয়ে যায়। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ আমাদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাই মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব ও অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে দিনবদলের সনদ তথা ভিশন-২০২১ ঘোষণা করেছেন। পরিবর্তনের এ অঙ্গিকার বাস্তবায়নে আমি দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানাই। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে দেশের তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানুক এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হোক এই কামনা করি।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণীঃ দিবসটি উপলক্ষে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ স্বাধনিতা সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসে ১৭ এপ্রিল এক চিরভাস্বর অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার আম্রকাননে সরকার শপথ গ্রহণ করে। ঘোষিত হয় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। সেদিন থেকে এ স্থানটি মুজিবনগর নামে পরিচিত লাভ করে। তিনি বলেন, পাকিস্তানি কারাগারে বন্দি জাতির পিতাকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এএইচ কামারুজ্জামানকে মন্ত্রিসভার সদস্য করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। তিনি বলেন, মুক্তিকামী সকল স্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রেখে এই সরকার দীর্ঘ নয় মাস দক্ষতার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। এবং ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি দেশবাসীকে ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দেয়া বাণীতে আরও বলেন, ১৯৭১ সালে যারা মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছিল তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচার চলছে এবং রায় দেয়াও শুরু হয়েছে। এ বিচার বাধাগ্রস্ত করতে এবং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতির শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধ্বংস করতে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি মাঠে নেমেছে এ অপশক্তিকে প্রতিহত করতে দেশপ্রেমিক নাগরিকদের একাত্ম হওয়ার আহবান জানাই।


আওয়ামী লীগের কর্মসূচিঃ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দলীয় সূত্র জানায়, এই ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত দিনটিকে প্রতিবারের ন্যায় সমগ্র দেশবাসীর সাথে একত্রিত হয়ে এবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির মধ্যে রযেছে- ভোর ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও কেন্দ্রীয় এবং দেশের সকল জেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে শহীদ জাতীয় নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং রাজশাহীতে এএইচএম কামারুজ্জামান-এর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। মুজিবনগরের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভোর ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ১১টায় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ। সকাল সোয়া ১১টায় গার্ড অব অনার। সকাল সাড়ে ১১টায় মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা মঞ্চে আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও মুজিবনগর দিবস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাসিম। এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার, পল¬øী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি। এছাড়াও মেহেরপুরের অনুষ্ঠানমালায় আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও মুজিবনগর দিবস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র বোস, বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি, শ্রী সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ অংশগ্রহণ করবেন।
১০:১৪ AM | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে শেখ হাসিনার বাণী

Written By James on সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১ | ৮:১১ PM


১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১০ এপ্রিল ১৯৭১-এ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক করে গঠিত হয় বিপ−বী সরকার। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরেরমুজিব নগরে বিপ−বী সরকার শপথ গ্রহণ করে। ১৯৭০ সনের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভ করে। কিন্তু ইয়াহিয়া সরকার
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর না করে তালবাহানার আশ্রয় নেয়।বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঐতিহাসিক জনসভায় ঘোষণা দেন ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বঙ্গবন্ধুর ঐ ঘোষণাই মুলত: স্বাধীনতার ঘোষণা। বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন শুরু এবং দেশে বিকল্প আওয়ামী লীগের সরকার পরিচালনা করেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই তখন দেশ পরিচালিত হত। এ অবস্থায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙ্গালির উপর আঘাত হানে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চ প্রত্যুষে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার অপরাধে ইয়াহিয়া সরকার বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে।বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে বিপ−বী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক পদেদায়িত্ব দেয়া হয়। জনাব তাজউদ্দিন আহমেদ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, জনাব এম. মুনসুর আলীওজনাব এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান প্রমুখকে মন্ত্রী করে উক্ত বিপ−বী সরকার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার আম বাগানেশপথ গ্রহণ করেন। এই বিপ−বী সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মুক্তিযুদ্ধ, রাজনৈতিক কর্মকান্ড, কূটনৈতিক ও প্রচার ক্ষেত্রে বিশ্ব জনমত গঠন এবং এক কোটি উদ্বাস্তুর পুর্নবাসন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেছিলেন। মুজিবনগর সরকারের
দূরদৃষ্টি ও দক্ষতার ফলে মাত্র নয় মাসে বাংলাদেশ পাকিস্তানের দখলদার বাহিনীকে অস্ত্রসমর্পণে বাধ্য করে।

আমি মুজিবনগরের বিপ−বী সরকারের কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত পরলোকগত এবং জীবিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সেনাকর্মকর্তা ও সদস্য, প্রশাসনকি কর্মকর্তা, বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ, কূটনৈতিকবৃন্দ এবং বিদেশী বন্ধুদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছি। একই সাথে মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।এবারের মুজিবনগর দিবসে মুক্তিযুদ্ধের মহত্ত্বর অর্জনসমূহকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বানজানাচ্ছি। আসুন আমরা সকলে মিলে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ দেশকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌছে দিতে সচেষ্ট হই। গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে দায়িত্ববান হয়ে চুড়ান্ত সাফল্যের পথে এগিয়ে যাই।
মুজিব নগর দিবস অমর হোক।



খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
---------------------------


তথ্যসূত্র :- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

৮:১১ PM | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা


রাষ্ট্রপতি :- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি :- সৈয়দ নজরুল ইসলাম

প্রধানমন্ত্রী :- তাজউদ্দীন আহমদ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী :- খন্দকার মোশতাক আহমদ

অর্থমন্ত্রী :- মনসুর আলী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী :- এইচ এম কামরুজ্জামান

প্রধান সেনাপতি :- এম এ জি ওসমানী

মুখ্য সচিব :- রুহুল কুদ্দুস

সংস্থাপনসচিব :- নূরুল কাদের খান

মন্ত্রিপরিষদসচিব :- এইচ টি ইমাম

তথ্যসচিব :- আবদুস সামাদ আনোয়ারুল হক খান
(১৪ অক্টোবর থেকে )

অর্থসচিব :- খোন্দকার আসাদুজ্জামান

পররাষ্ট্রসচিব :- মাহবুবুল আলম চাষী

স্বরাষ্ট্রসচিব :- এম এ খালেক

কৃষিসচিব :- নূরউদ্দিন আহমদ

প্রতিরক্ষাসচিব :- আবদুস সামাদ

আইনসচিব :- এ হান্নান চৌধুরী

শিক্ষা উপদেষ্টা :- কামরুজ্জামান এমএনএ

তথ্য, বেতার, ফিল্ম, আর্ট ও ডিজাইন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত :- আবদুল মান্নান এমএনএ

পরিকল্পনা কমিশন চেয়ারম্যান :- ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী

সদস্যরা :-
ড. স্বদেশ বসু
ড. মুশাররফ হোসেন
ড. আনিসুজ্জামান
ড. সারওয়ার মুরশিদ
৭:৪২ PM | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র

Written By James on বুধবার, ৬ জুলাই, ২০১১ | ৪:৩৭ PM


বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৭১ সালের এপ্রিল ১৭ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত একটি ঘোষণাপত্র। যতদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলেছে ততদিন মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে এই ঘোষণাপত্র কার্যকর ছিল। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হওয়ার পরও এই ঘোষণাপত্র সংবিধান হিসেবে কার্যকর ছিল। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর ১৬ তারিখে যখন দেশের নতুন সংবিধান প্রণীত হয় তখন সংবিধান হিসেবে এর কার্যকারিতার সমাপ্তি ঘটে।
(১) ইতিহাস

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ঢাকা এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্যান্য অংশে আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক গণহত্যা চালায়। এই গণগত্যার প্রাক্কালে তৎকালীন আওয়ামী লিগ নেতৃবৃন্দ, গণপরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যগণ নিরাপত্তার জন্য সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। ৩০ মার্চের মধ্যেই তাদের অনেকে কলকাতায় সমবেত হন। প্রাদেশিক পরিষদের যেসকল সদস্য ১০ এপ্রিলের মধ্যে কলকাতায় মিলিত হতে সমর্থ হন তারা তারা ঐদিনই একটি প্রবাসী আইন পরিষদ গঠন করে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের খসড়া প্রণয়ন করেন। এপ্রিল ১৭ তারিখে মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী স্থান বৈদ্যনাথতলায় (পরবর্তী নাম মুজিবনগর) এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে গণপরিষদের সদস্য এম ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে নবগঠিত প্রবাসী আইন পরিষদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে। এদিনই ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়া হয় এবং একই সাথে ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কার্যকর হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়। এর ফলে প্রবাসী মুজিবনগর সরকারও বৈধ বলে স্বীকৃত হয়। এ ঘোষণায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকলের মধ্যে চেইন অফ কমান্ড স্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়।
(২) ঘোষণাপত্রের পূর্ণ বিবরণ

মুজিবনগর, বাংলাদেশ

তারিখ: ১০ এপ্রিল ১৯৭১

যেহেতু ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়েছিল; এবং

যেহেতু এই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় ১৬৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিল;

এবং

যেহেতু জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সনের ৩রা মার্চ তারিখে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধিবেশন আহ্বান করেন; এবং

যেহেতু তিনি আহূত এই অধিবেশন স্বেচ্ছার এবং বেআইনীভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন; এবং

যেহেতু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করার পরিবর্তে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পারষ্পরিক আলোচনাকালে ন্যায়নীতি বহির্ভূত এবং বিশ্বাসঘাতকতামূলক যুদ্ধ ঘোষণা করেন; এবং

যেহেতু উল্লিখিত বিশ্বাসঘাতকতামূলক কাজের জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান; এবং

যেহেতু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বর্বর ও নৃশংস যুদ্ধ পরিচালনা করেছে এবং এখনও বাংলাদেশের বেসামরিক ও নিরস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন গণহত্যা ও নির্যাতন চালাচ্ছে; এবং

যেহেতু পাকিস্তান সরকার অন্যায় যুদ্ধ ও গণহত্য এবং নানাবিধ নৃশংস অত্যাচার পরিচালনার দ্বারা বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিদের পক্ষে একত্রিত হয়ে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব কে তুলেছে; এবং

যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপর তাদের কার্যকরি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে;

সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন সে ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আমাদের সমবায়ে গণপরিষদ গঠন করে পারষ্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে

বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা করছি এবং এর দ্বারা পূর্বাহ্নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করছি; এবং

এতদ্বারা আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন; এবং

রাষ্ট্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন; ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতাসহ সর্বপ্রকার প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতার অধিকারী থাকবেন; এবং

তাঁর কর ধার্য ও অর্থব্যয়ের ক্ষমতা থাকবে; এবং

বাংলাদেশের জনসাধারণের জন্য আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতারও তিনি অধিকারী হবেন।

বাংলাদেশের জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, কোন কারণে যদি রাষ্ট্রপ্রধান না থাকেন অথবা যদি রাষ্ট্রপ্রধান কাজে যোগদান করতে না পারেন অথবা তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে যদি অক্ষম হন, তবে রাষ্ট্রপ্রধান প্রদত্ত সকল দায়িত্ব উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পালন করবেন। আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, বিশ্বের একটি জাতি হিসাবে এবং জাতিসংঘের সনদ মোতাবেক আমাদের উপর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তেছে তা যথাযথভাবে আমরা পালন করব। আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, আমাদের এই স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সনের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, আমাদের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য আমরা অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলীকে যথাযথভাবে রাষ্ট্রপ্রধান ও উপ-রাষ্ট্রপ্রধানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য দায়িত্ব অর্পণ ও নিযুক্ত করলাম।

স্বাক্ষর: অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী

বাংলাদেশ গণপরিষদের ক্ষমতা দ্বারা

এবং ক্ষমতাবলে যথাবিধি সর্বাধিক ক্ষমতাধিকারী।
(৩) আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ ১৯৭১

বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে প্রদত্ব ক্ষমতাবলে একটি দিনে আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ নামে একটি আদেশ জারি করেন। ঘোষণাপত্রের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা রক্ষার্থে এই আদেশ বলবৎ করা হয়।
(৩.১) পূর্ণ বিবরণ

আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ ১৯৭১

মুজিবনগর, বাংলাদেশ, ১০ এপ্রিল ১৯৭১, শনিবার ১২ চৈত্র ১৩৭৭

আমি বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে এ আদেশ জারি করছি যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একইভাবে চালু থাকবে, তবে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য করা যাবে। এই রাষ্ট্র গঠন বাংলাদেশের জনসাধারণের ইচ্ছায় হয়েছে। এক্ষণে, সকল সরকারি, সামরিক, বেসামরিক, বিচার বিভাগীয় এবং কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী যারা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেছেন, তারা এতদিন পর্যন্ত নিয়োগবিধির আওতায় যে শর্তে কাজে বহাল ছিলেন, সেই একই শর্তে তারা চাকুরিতে বহাল থাকবেন। বাংলাদেশের সীমানায় অবস্থিত সকল জেলা জজ এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সকল কূটনৈতিক প্রতিনিধি যারা অন্যত্র অবস্থান করছেন, তারা সকল সরকারি কর্মচারীকে স্ব স্ব এলাকায় আনুগত্যের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন।

এই আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়েছে বলে গণ্য করতে হবে।

স্বাক্ষর:- সৈয়দ নজরুল ইসলাম
 রাষ্ট্রপতি (
ভারপ্রাপ্ত) এবং উপ-রাষ্ট্রপতি


(৪)তথ্যসূত্র

* বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র, তৃতীয় খণ্ড, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা, ১৯৮২, পৃষ্ঠা ৪-৭

[ বাংলা উইকিপিডিয়া হতে জিএফডিএল এর অধীনে প্রদত্ত ]
৪:৩৭ PM | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

মুজিবনগর সরকার

Written By James on সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১১ | ১০:১২ PM


‘১৯৭১-এর ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা অনিবার্য হয়ে ওঠে এই কারণে যে, তার ২২ দিন আগে অর্থাৎ ২৬ মার্চ রাতে ঢাকায় জল্লাদ টিক্কা খানের নেতৃত্বে পাকহানাদার বাহিনী গণহত্যাযজ্ঞ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। তিনি ওই ঘোষণায় ‘বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মৃত্যুঞ্জয়ী আদেশ ও আহ্বান’ জানান। ওই আহ্বানের পরম্পরা নির্মিত হয়েছিল পাকিস্তানের পঁচিশ বছরের দুঃশাসনের ও নির্যাতনের নাগপাশ ছিন্ন করে বাঙালি জাতির মুক্তিদূত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ঘোষণা ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’-এর অগ্নি মন্ত্রে। বঙ্গবন্ধুর এই পুণ্যময় অগ্নি মন্ত্রে আলোকিত ও অনুপ্রাণিত হয়ে ’৭১-এর ৯ মাসব্যাপী বাঙালি জাতির বীর সন্তানরা ‘জয় বাংলা, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ রণধ্বনি কণ্ঠে তুলে পঙ্গপালের মতো রণাঙ্গনে রণাঙ্গনে ফুলের মতো ঝরে ঝরে পড়েছে। কিন্তু এক কদম পিছু হটেনি। স্বাধীনতার মনজিলে মকসুদ থেকে একবিন্দু টলেনি।

রণাঙ্গনে ৯ মাস ধরে হাসিমুখে তারা জীবনের জয়গান গেয়ে গেছে। পেছনে তাকায়নি, ক্লান্তি মানেনি। বঙ্গ জননীর লাখ লাখ বীর সন্তান ’৭১-এ প্রাণপ্রিয় জননী ও জন্মভূমির মান রাখতে প্রিয় প্রাণ নিঃশেষে দান করে জান্নাতবাসী হয়ে গেছে। ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সূর্যের মতো সত্য হয়ে আছে যে, বাঙালি জাতির আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুঞ্জয়ী মন্ত্রে মুগ্ধ হয়ে প্রাণদানের মহত্তম পুণ্য অর্জনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সেই পুণ্য অর্জনের এক পুণ্যময় দিন ১৭ এপ্রিল। ততোদিনে বাঙালি জাতি ও বিশ্ববাসী জেনে গেছে বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার রাতেই পাকিস্তানি হানাদার পাক সেনাবাহিনী তাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও রাষ্ট্র বিচ্ছিন্নকরণের অপরাধে ঢাকা থেকে বন্দি করে পাকিস্তানে অন্তরীণ করে। তার আদর্শের যোগ্য উত্তরসূরি জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান সেই আঁধার রাতে উত্তাল তরঙ্গ ক্ষুব্ধ সাগরে ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার, লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশিথে যাত্রীরা হুঁশিয়ার’ বলে হাল ধরেছেন নৌকার। ১০ এপ্রিল সারা বিশ্বকে তারা জানিয়ে দিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার করা হয়েছে। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে নটায় ‘আকাশবাণী’ রেডিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণ প্রচারিত হলো। বিশ্ববাসী ও বাঙালি জাতি ১১ এপ্রিলের সুপ্রভাতে আনন্দ-আবেগে নয়ন মেলে জেগে উঠলো বিশ্বের মানচিত্রে নতুন বাংলাদেশকে স্বাগতম, সু-স্বাগতম জানাতে। সূচি স্নিগ্ধ চিত্তে কোটি কোটি বাঙালি ভাইবোন কোরাসের কণ্ঠে গেয়ে উঠলো ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি।’

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জার্মানির সেনাবাহিনী ফ্রান্স দখল করে নিলে জেনারেল দ্য গলে লন্ডনে যেভাবে ফ্রান্সের প্রবাসী সরকার গঠন করেছিলেন, সেভাবে ১৯৭১ সালে হানাদার পাকিস্তানি বর্বর সেনাবাহিনী বাংলাদেশ দখল করে বাঙালি জাতির ওপর গণহত্যাযজ্ঞ শুরু করলে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তার আদর্শের উত্তরসূরিরা কলকাতায় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার গঠন করেছিলেন। প্রবাসী সরকার ১৪ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গাকে রাজধানী করে সেখানে সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বাধীনতা সনদ ঘোষণার ও স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের গোপন সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শেষপর্যন্ত এই কার্যক্রমের গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যায় এবং পাকিস্তানি বিমানবাহিনী ১৩ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় বৃষ্টির মতো বোমা বর্ষণ করে এবং পাকহানাদার বাহিনী ওইদিনই চুয়াডাঙ্গা দখল করে নেয়।

ওই বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সিদ্ধান্ত নেন যে, পরবর্তী শপথ গ্রহণের দিনক্ষণ ও স্থান তিনি কাউকে জানাবেন না। পাকবাহিনীর বিমান হামলার কথা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের মানচিত্র দেখে সর্বোত্তম নিরাপদ একটি স্থান তিনি বাছাই করেন। তার এই গোপনতম কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য তার বিশ্বস্ত সহচর ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম এবং শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে লে. কর্নেল শ্রী গোলক মজুমদার এবং বিএসএফের শ্রী চট্টপাধ্যায়কে দেয়া হয়। দ্বিতীয়বার বিপর্যয় এড়াতে তাদের মধ্যে এ বিষয়ে কথা চলতো আকার ইঙ্গিতে এবং কোড ব্যবহারের মাধ্যমে।

অবশেষে অনেক কৌশলগত দিক বিবেচনা করে এবং জমিনে ও আকাশে ভারতের সামরিক নিরাপত্তার আচ্ছাদন নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথ তলার আম্রকাননে ১৭ এপ্রিল সকালে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণের সময় ও দিন তারিখ নির্ধারিত হয়।

‘৭১-এ বাংলাদেশের জন্মলগ্নের অকৃত্রিম বন্ধু ও বাঙালি জাতির দুঃসময়ের অভয়দাত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর হুকুমে ১৭ এপ্রিলের সকালে দমদম এয়ারপোর্টে গোপনে সজ্জিত হয় ভারতীয় যুদ্ধ বিমান বহর। মেহেরপুর সীমান্তের ভারতীয় ভূখ-ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় ভারতের অজেয় ক্ষিপ্রগতির সামরিক বাহিনী। মেহেরপুর আম্রকাননের দূর-দূরান্তে ঘাস-পাতা বিছানো জালের ছাউনিতে ভারতীয় বাহিনীর অ্যান্টি এয়ারক্রাফট গান মেহেরপুরের আকাশ নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে দেয়।

এদিকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে বাংলাদেশের সরকারের অফিসের কেউ জানে না, কলকাতা থেকে শত শত মাইল দূরে বাঙালি জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ইতিহাসের এক স্বর্ণালি অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। মেহেরপুরে ১৭ এপ্রিলের গোপন পরিকল্পনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এতোই কঠোর-কঠিন গোপনীয়তা অবলম্ব^ন করেন যে, শুধু বাংলাদেশের এমপিরা নন মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য তা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেনি। তাদের শুধু বলা হয় তারা কেউ কলকাতার বাইরে বের হবেন না। ১৪ এপ্রিলের বিপর্যয়ের বেদনা ও গ্লানি মুছে ফেলতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কা-ারি বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি তাজউদ্দীন আহমদের এই কোষবদ্ধ কঠোর গোপনীয়তা।

১৭ এপ্রিলের মেহেরপুরের পুণ্যময় প্রভাতের জন্য ১৬ এপ্রিল মধ্যরাতে কলকাতার বুকে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। বিএসএফের কর্নেল চট্টপাধ্যায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ১০০টা গাড়ি ও বাসের ব্যবস্থা করেন। ৫০টি বাস ও গাড়িতে করে কলকাতা শহর ও আশপাশে ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত বাংলাদেশের এমপিদের ঘুম ভাঙিয়ে একে একে গাড়িতে তোলা হতে থাকে। সকাল সাড়ে পাঁচটায় কলকাতা প্রেসক্লাব এবং হোটেল গ্র্যান্ড ও হোটেল পার্কের সামনে থেকে ৫০টি গাড়িতে ও বাসে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ক্যামেরাম্যান ও টিভি ক্রুদের তোলা হয়। কলকাতা প্রেসক্লাবে মৌমাছির মতো সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানদের তুলতে গেলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি ‘রহমত আলী’ ছদ্মনামে পরিচিত ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ও টাঙ্গাইলের এমপি আবদুল মান্নান। তারা অনেক প্রশ্ন করলেন। তাদের অনেক প্রশ্নের কোনো উত্তর পেলেন না তারা। তাদের যাত্রা কোথায়? বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি রহমত আলী শুধু বললেন : ‘অজানার উদ্দেশে’। ১৯৭১, ১৭ এপ্রিল বাঙালি জাতির সামনে তখন সবকিছুই ছিল অজানা ও অনিশ্চিত পথযাত্রা। শুধু নিশ্চিত ছিল স্বাধীনতা। মেহেরপুরের উদ্দেশ্য সেই স্বাধীনতার পথযাত্রার প্রথম ধাপ ১৭ এপ্রিলের যাত্রা। কাক ডাকা ভোরে কলকাতা প্রেসক্লাব থেকে এবং হোটেল পার্ক ও গ্র্যান্ড হোটেল থেকে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যান এবং টিভি ক্রুদের নিয়ে একে একে ৫০টি গাড়ি ও বাস কলকাতা শহরকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চললো অজানা গন্তব্যের উদ্দেশে। তাদের গাইড হিসেবে অগ্রবর্তী গাড়িতে ছিল বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি ‘রহমত আলী’ এবং আবদুুল মান্নান এমপি। অন্যদিকে ভারতীয় কমান্ডো বাহিনীর নিñিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে কলকাতা থেকে রহমত আলী ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার’ সাইক্লোস্টাইল করা ইংরেজি ও বাংলার বহু কপি সঙ্গে নিয়েছিলেন সাংবাদিকদের মধ্যে বিতরণের জন্য। ১৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে পাঁচটায় বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্র ও ত্রাণ মন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বাসঘাতক খুনী মোশতাক আহমদ এবং কর্নেল (অব.) আতাউল গনি ওসমানী একটি গাড়িতে রওনা হন। সাংবাদিকদের গাড়িতে স্বাধীন বাংলা বেতারের ‘ওয়্যার করেসপন্ডেন্ট’ হিসেবে আমি এবং তথ্য ও প্রচার বিভাগের এম আর আখতার মুকুল ভাই সহযাত্রী হলাম। সকাল ১১টায় বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভার ভিআইপিরা সেখানে পৌঁছান। তার আগে সাংবাদিকদের নিয়ে আমরা সেখানে পৌঁছে যাই।

মেহেরপুরের মহকুমা প্রশাসক তওফিক এলাহী চৌধুরী এবং এসপি মাহবুবের নেতৃত্বে বৈদ্যনাথ তলার আম্রকাননে ছোট্ট একটা মঞ্চ সাজানো, ছোট দুটি কার্পেট বিছানো এবং দেবদারুর কচিপাতার তোরণ নির্মাণ কার্যক্রম তখনো চলছিল। তোরণের দুপাশে বঙ্গবন্ধুর বড় বড় ছবি ঝোলানো হয়।

দুপুরের মধ্যে বৈদ্যনাথ তলার আম্রকানন লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। মেহেরপুরের মুক্তিযোদ্ধারা শেষ মুহূর্তে খবর পেয়ে যে যেখানে ছিল পঙ্গপালের মতো উড়ে আসতে থাকে। আনন্দ-আবেগে উদ্বেলিত শত শত কণ্ঠের ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, গগন বিদারী স্লোগানে মেহেরপুরের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। স্লেøাগানে, মুখরিত বৈদ্যনাথ তলার মঞ্চে দুপুরের পরপরই উঠলেন অনুষ্ঠানের পরিচালক আবদুল মান্নান এমপি। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াতের জন্য একজন মাওলানার নাম তিনি মাইকে ঘোষণা করলেন। কিন্তু সেই মাওলানাকে সেখানে পাওয়া গেল না। তার কারণ, সকাল থেকে মেহেরপুরের জামায়াত ও পাকিস্তানপন্থী দলগুলো বৈদ্যনাথ তলায় ‘হিন্দুদের পূজোর অনুষ্ঠানে’ কেউ যাতে কোরআন তেলাওয়াত না করতে পারে সেজন্য মেহেরপুর মহকুমার সব মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের তাড়িয়ে নিয়ে মেহেরপুর ছাড়া করে। ফলে সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা সমবেত ভিড়ের মধ্য থেকে মেহেরপুরের কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র মহেশ নগরের বাকের আলীকে মঞ্চে তুলে আনলো। ভারি মিষ্টি গলায় ক্বেরাত পড়তো সে। সেই বাকের আলীর কণ্ঠে আল্লাহর পাক কালাম তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের জন্য পরে পাকহানাদাররা তার গায়ে গুড় মাখিয়ে দিয়ে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে তার শরীরে পিঁপড়ার বাসা ভেঙে ঢেলে দেয়। কিন্তু আল্লাহর হুকুমে কোনো পিঁপড়া তাকে কামড়ায়নি। এরপর আবদুল মান্নান এমপি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করার জন্য মাইকে চিফ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলীর নাম ঘোষণা করেন। তিনি মঞ্চে উঠে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে মুহুর্মুহু জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো স্লোগানের মধ্যে ৪৬৪ শব্দে রচিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার সনদ পাঠ করেন।

স্বাধীনতা ঘোষণার এই সনদে সুস্পষ্টভাবে ও সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক আইনের অনুসরণে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানি বর্বর সশস্ত্রবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালি জাতির ওপর গণহত্যা শুরু করার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের মেজরিটি দলের নেতা হিসেবে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং বাংলাদেশের অখ-তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণকে শেষ রক্ত বিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

স্বাধীনতা ঘোষণার সনদে আরো বলা হয়, ‘…সেইহেতু আমরা বাংলাদেশকে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করিতেছি এবং উহার দ্বারা পূর্বাহ্নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করিতেছি।
১০:১২ PM | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

 

Published by Mujibnagar | Contact Us | Bagladesh Company | Bangladesh History | Bagladesh Tech | Famous Bengali Personality