মেহেরপুরের পত্র পত্রিকা

Written By James on শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৪ | ১০:৩৯ pm

মেহেরপুর একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এলাকা হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে এখানে কোন দৈনিক বা পাক্ষিক পত্রিকা চালু নেই। বৃটিশ আমল থেকে মেহেরপুরে কিছু পত্রিকা চালু ছিল। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের রেয়াজ উদ্দিন আহমেদের সম্পাদনায় ১২৯৮ বঙ্গাব্দ সনে ‘ইসলাম প্রচারক’ এবং ১৩১২ বঙ্গাব্দ সনে ‘সোলতান’ নামে দু’টি পত্রিকা প্রকাশিত হতো। মেহেরপুরের কিছু পত্রিকার তালিকা নিম্নে দেয়া হলোঃ-

মাসিক ‘সাধক’
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামে অধিবাসী হীরালাল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বাংলা ১৩১৯ সালে'র ১লা বৈশাখ ‘নদীয়া সাহিত্য সম্মিলনী’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন গঠিত হয়। এ সংগঠনের উদ্যোগে বাংলা ১৩২০ সালের ১লা বৈশাখে ‘সাধক’ নামে উন্নতমানের একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করে। এ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সতীশ চন্দ্রবিশ্বাস এবং প্রকাশক ছিলেন - অবিনাশ চন্দ্র বিশ্বাস। পত্রিকাটি দু’বছর নিয়মিতভাবে কৃষ্ণনগর থেকে মুদ্রিত হয়ে প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকাটিকে মেহেরপুরের ইতিহাসের প্রথম সংবাদপত্র হিসেবে গন্য করা হয়ে থাকে।

দু’বছরের প্রকাশনায় সাধক পত্রিকায় সাহিত্য-সংস্কৃতির পাশাপাশি তৎকালীন সময়ের নদীয়ার বিভিন্ন জনপদের বিবরণ প্রকাশিত হতো। পত্রিকাটি খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল বলে জানা যায়।

মাসিক ‘পল্লী শ্রী’
‘সাধক’ বাংলা ১৩২০ সাল হতে দু’বছর প্রকাশনার পর পরবর্তী দু’দশকের ও অধিক কাল মেহেরপুর থেকে কোন পত্র-পত্রিকা প্রকাশ হয়েছে বলে জানা যায় না। ‘পল্লী শ্রী’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা বাংলা ১৩৪২ সালের শেষের দিকে প্রথম প্রকাশিত হয়ে কখনো নিয়মিত কখনো অনিয়মিত ভাবে ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পূর্ব পযর্ন্ত প্রকাশিত হয়। অমরেন্দ্র বসু ওরফে হাবু বাবুর সম্পাদনায় মেহেরপুরের বর্তমান সামসুজ্জোহা পার্কের প্রধান সড়কের পশ্চিম দিকে অবস্থিত প্রমথ চন্দ্র রায়ের কমলা প্রেস থেকে পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো। পাকিস্থান সৃষ্টির পর প্রমথ বাবু কমলা প্রেস বিক্রি করে দেন। ফলে ‘পল্লীশ্রী’ বন্ধ হয়ে যায়। কবি অজিত দাস, দীনেন্দ্র কুমার রায় প্রমূখ নিয়মিত এ পত্রিকায় লিখতেন।

পাক্ষিক ‘সীমান্ত’
১৯৪৭ হতে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত মেহেরপুর থেকে কোন পত্র-পত্রিকা প্রকাশিত হয়নি। ১৯৬২ সালে মেহেরপুর থানা কাউন্সিলের উদ্যোগে সীমান্ত নামে একটি পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। সম্পাদক ছিলেন মোঃ মফিজুর রহমান। মেহেরপুর বড়বাজারের এডলিক প্রিন্টিং প্রেস থেকে পত্রিকাটি চার বছর নিয়মিত প্রকাশিত হয় এবং ১৯৬৬ সালের শেষের দিকে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। কুতুবপুরের জনৈক শিল্পী মোঃ নাসিরুদ্দিন ‘আমকাঁঠাল লিচুতে ভরপুর, তারই নাম মেহেরপুর’- এই কথাগুলো লিখে পত্রিকাটির প্রচ্ছদ এঁকে দিয়েছিলেন।

‘প্রবাহ’
খ্রিস্টীয় ১৯৭৯ সালের ১৩ই মার্চ, বাংলা ১৩৮৫ সালের ২৮শে ফাল্গুন মেহেরপুর থেকে ‘প্রবাহ’ নামে একটি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস বিষয়ক বুলেটিন প্রকাশিত হয়। প্রবাহের সম্পাদক মন্ডলী ছিলেন মুহঃ আনছার-উল-হক, মোঃ আলী ওবায়দুর রহমান ও মোঃ নাসির উদ্দিন মীর। মেহেরপুর বড়বাজারের এডলিক প্রিন্টিং প্রেস থেকে এটি প্রকাশিত হতো কয়েকটি মাত্র অনিয়মিত সংখ্যা প্রকাশিত হয়। অনিয়মিত এবং সাহিত্য বিষয়ক বুলেটিন হলেও পত্রিকাটি মেহেরপুরের বিদগ্ধ মহলে খুবই সমাদৃত হয়েছিল।

সাপ্তাহিক পরিচয়
এসএম তোজাম্মেল আযমের সম্পাদনায় ১৯৮৫ সালে পরিচয় নামে একটি সাপ্তাহিক মেহেরপুর শহরের কাথুলী সড়কের গফুর প্রিন্টিং প্রেসে মুদ্রিত হয়ে প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯৮৭ সালে এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে ১৯৯১ সাল থেকে পুনরায় প্রকাশিত হতে থাকে। এ পত্রিকাটির প্রকাশনা অনিয়মিত।

দৈনিক আযম
এসএম তোজাম্মেল আযমের সম্পাদনায় ১৯৯২ সালের মার্চ মাস থেকে দৈনিক আযম নামে একটি সংবাদপত্র প্রকাশিত হচ্ছে। এ পত্রিকাটির প্রকাশনা অনিয়মিত।

সাপ্তাহিক চুম্বক
১৩৯২ বাংলা সনের ১২ই চৈত্র মোতাবেক ১৯৮৬ খ্রিস্টীয় সালের ২৬শে মার্চ মেহেরপুর কোর্ট রোডের লুমা প্রিন্টিং প্রেস থেকে সাপ্তাহিক চুম্বক প্রকাশিত হয়। প্রায় এক বছর নিয়মিত প্রকাশনার পর সরকারের নির্দেশে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। এই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন- অ্যাডভোকেট সৈয়দ আমিনুল ইসলাম।

সাপ্তাহিক মুজিবনগর
১৩৯৫ বাংলা সনের ২৬শে আষাঢ় ১৯৮৮ খ্রিস্টীয় সালের ১১ই জুলাই মেহেরপুর কোর্ট রোডের লুমা প্রিন্টিং প্রেস থেকে সাপ্তাহিক মুজিবনগর প্রথম প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। অ্যাডভোকেট সৈয়দ আমিনুল ইসলাম পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক। পত্রিকাটির প্রকাশনা অনিয়মিত এবং এখন আর প্রকাশিত হচ্ছে না।

পাক্ষিক পশ্চিমাঞ্চল
রুহুল কুদ্দুস টিটোর সম্পাদনায় মেহেরপুর কাঁসারীপাড়া থেকে ১৯৯২ সালের ১৪ই ফ্রেবুয়ারি পাক্ষিক পশ্চিমাঞ্চল প্রথম প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি ঢাকা থেকে কম্পিউটার কম্পোজে প্রকাশিত হতো। পত্রিকাটি এখন আর প্রকাশিত হচ্ছে না।

সাপ্তাহিক মেহেরপুর/ দৈনিক মেহেরপুর
১৯৯২ সাল থেকে অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদখানের সম্পাদনায় রশিদ হাসান খান আলো কর্তৃক সাপ্তাহিক মেহেরপুর প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে পত্রিকাটি দৈনিক হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে। বর্তমানে রশিদ হাসান খান আলো পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক। এ পত্রিকাটির প্রকাশনা অনিয়মিত।
১০:৩৯ pm | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশর ঘোষণাপত্র

Written By James on মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০১৪ | ৯:৫৫ pm

স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশর ঘোষণাপত্র
১০ এপ্রিল ১৯৭১
মুজিবনগর, বাংলাদেশ

যেহেতু ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হইয়াছিল;

এবং

যেহেতু এই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় ১৬৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিল;

এবং

যেহেতু জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সনের ৩রা মার্চ তারিখে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধিবেশন আহ্বান করেন; 

এবং

যেহেতু তিনি আহূত এই অধিবেশন স্বেচ্ছার এবং বেআইনীভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন;

এবং

যেহেতু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করার পরিবর্তে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পারষ্পরিক আলোচনাকালে ন্যায়নীতি বহির্ভূত এবং বিশ্বাসঘাতকতামূলক যুদ্ধ ঘোষণা করেন;

এবং

যেহেতু উল্লিখিত বিশ্বাসঘাতকতামূলক কাজের জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান;

এবং

যেহেতু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বর্বর ও নৃশংস যুদ্ধ পরিচালনা করেছে এবং এখনও বাংলাদেশের বেসামরিক ও নিরস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন গণহত্যা ও নির্যাতন চালাচ্ছে;

এবং

যেহেতু পাকিস্তান সরকার অন্যায় যুদ্ধ ও গণহত্য এবং নানাবিধ নৃশংস অত্যাচার পরিচালনার দ্বারা বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিদের পক্ষে একত্রিত হয়ে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব কে তুলেছে;

এবং

যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপর তাদের কার্যকরি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে;

সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন সে ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আমাদের সমবায়ে গণপরিষদ গঠন করে পারষ্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে

বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা করছি এবং এর দ্বারা পূর্বাহ্নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করছি;

এবং

এতদ্বারা আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন;

এবং

রাষ্ট্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন; ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতাসহ সর্বপ্রকার প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতার অধিকারী থাকবেন;

এবং

তাঁর কর ধার্য ও অর্থব্যয়ের ক্ষমতা থাকবে;

এবং

বাংলাদেশের জনসাধারণের জন্য আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতারও তিনি অধিকারী হবেন।

বাংলাদেশের জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, কোন কারণে যদি রাষ্ট্রপ্রধান না থাকেন অথবা যদি রাষ্ট্রপ্রধান কাজে যোগদান করতে না পারেন অথবা তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে যদি অক্ষম হন, তবে রাষ্ট্রপ্রধান প্রদত্ত সকল দায়িত্ব উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পালন করবেন। আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, বিশ্বের একটি জাতি হিসাবে এবং জাতিসংঘের সনদ মোতাবেক আমাদের উপর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তেছে তা যথাযথভাবে আমরা পালন করব। আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, আমাদের এই স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সনের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, আমাদের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য আমরা অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলীকে যথাযথভাবে রাষ্ট্রপ্রধান ও উপ-রাষ্ট্রপ্রধানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য দায়িত্ব অর্পণ ও নিযুক্ত করলাম।

স্বাক্ষর: অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী

বাংলাদেশ গণপরিষদের ক্ষমতা দ্বারা

এবং ক্ষমতাবলে যথাবিধি সর্বাধিক ক্ষমতাধিকারী।

আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ ১৯৭১

বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে প্রদত্ব ক্ষমতাবলে একটি দিনে আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ নামে একটি আদেশ জারি করেন। ঘোষণাপত্রের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা রক্ষার্থে এই আদেশ বলবৎ করা হয়।
পূর্ণ বিবরণ

আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ ১৯৭১

মুজিবনগর, বাংলাদেশ, ১০ এপ্রিল ১৯৭১, শনিবার ১২ চৈত্র ১৩৭৭

আমি বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে এ আদেশ জারি করছি যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একইভাবে চালু থাকবে, তবে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য করা যাবে। এই রাষ্ট্র গঠন বাংলাদেশের জনসাধারণের ইচ্ছায় হয়েছে। এক্ষণে, সকল সরকারি, সামরিক, বেসামরিক, বিচার বিভাগীয় এবং কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী যারা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেছেন, তারা এতদিন পর্যন্ত নিয়োগবিধির আওতায় যে শর্তে কাজে বহাল ছিলেন, সেই একই শর্তে তারা চাকুরিতে বহাল থাকবেন। বাংলাদেশের সীমানায় অবস্থিত সকল জেলা জজ এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সকল কূটনৈতিক প্রতিনিধি যারা অন্যত্র অবস্থান করছেন, তারা সকল সরকারি কর্মচারীকে স্ব স্ব এলাকায় আনুগত্যের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন।

এই আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়েছে বলে গণ্য করতে হবে।

স্বাক্ষর:- সৈয়দ নজরুল ইসলাম

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি


৯:৫৫ pm | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

বাংলাদেশ এর স্বাধীনতা সময় হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের নাম এবং মেয়াদকাল

Written By James on বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০১৪ | ৭:৩৪ pm

বাংলাদেশ এর স্বাধীনতা সময় হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি'দের নাম এবং মেয়াদকাল।

১) শেখ মুজিবুর রহমান
(মেয়াদকাল ১৭-০৪-৭১ থেকে ১২-০১-৭২ ইং)

সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত)
(মেয়াদকাল ১৭-০৪-৭১ থেকে ০৯-০১-৭২ ইং)

২) বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
(মেয়াদকাল ১২-০১-৭২ থেকে ২৪-১২-৭৩ ইং)

৩) মোহাম্মদ উল্ল্যাহ
(মেয়াদকাল ২৪-১২-৭৩ থেকে ২৫-০১-৭৫ ইং)

৪) শেখ মুজিবুর রহমান
(মেয়াদকাল ২৫-০১-৭৫ থেকে ১৫-০৮-৭৫ ইং)

৫) খন্দকার মোস্তাক আহম্মেদ
(মেয়াদকাল ১৬-০৮-৭৫ থেকে ০৬-১১-৭৫ ইং)

৬) বিচারপতি এ এস এম সায়েম
(মেয়াদকাল ০৬-১১-৭৫ থেকে ২১-০৪-৭৭ ইং)

৭) জিয়াউর রহমান
(মেয়াদকাল ২১-০৪-৭৭ থেকে ৩০-০৫-৮১ ইং)

৮) বিচারপতি আবদুস সাত্তার
(মেয়াদকাল ৩০-০৫-৮১ থেকে ২৩-০৩-৮২ ইং)

০৯) বিচারপতি এ এফ এম আহসান উদ্দিন চৌধুরী
(মেয়াদকাল ২৪-০৩-৮২ থেকে ১০-১২-৮৩ ইং)

১০) হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ
(মেয়াদকাল ১০-১২-৮৩ থেকে ০৬-১২-৯০ ইং)

১১) বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ
(মেয়াদকাল ০৬-১২-৯০ থেকে ০৯-১০-৯০ ইং)

১২) আবদুর রহমান বিশ্বাস
(মেয়াদকাল ০৯-১০-৯১ থেকে ০৯-১০-৯৬ ইং)

১৩) বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ
(মেয়াদকাল ০৯-১০-৯৬ থেকে ১৪-১১-০১ ইং)

১৪) এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী
(মেয়াদকাল ১৪-১১-০১ থেকে ২১-০৬-০২ ইং)

১৫) ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার (অস্থায়ী)
(মেয়াদকাল ২১-০৬-০২ থেকে ০৬-০৯-০২ ইং)

১৬) অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমদ
(মেয়াদকাল ০৬-০৯-০২ থেকে ১২-০২-০৯ ইং)

১৭) জিল্লুর রহমান
(মেয়াদকাল ১২-০২-০৯ থেকে ২০-০৩-১৩ ইং)

১৮) আবদুল হামিদ
(মেয়াদকাল ১৪-০৩-২০১৩ ইং থেকে বর্তমানে চলছে)
৭:৩৪ pm | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

মুজিবনগর দিবস আজ

Written By James on বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৩ | ১০:১৪ am


আজ ১৭ এপ্রিল ২০১৩
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে এক ঐতিহাসিক দিন।
যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করার জন্য সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ এডভোকেট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে মেহেরপুরে মুজিবনগর দিবস উদযাপনের সকল প্রস্তুতিও ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া জেলার তদানীন্তন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। তখন মেহেরপুর মুক্ত এলাকা ছিল। ইতিপূর্বে ১০ এপ্রিল এমএনএ ও এমপিদের কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা ও পাক হানাদার বাহিনীকে আমাদের স্বদেশ ভূমি থেকে বিতাড়িত করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত এবং নির্দেশিত পথে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনের জন্য এই সরকার গঠন করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এইচএম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তদানীন্তন কর্নেল এমএজি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে ১০ এপ্রিল গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। এই ঘোষণার ৬ষ্ঠ অনুচ্ছেদে বলা হয় বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং বাংলাদেশের অখ-তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। ও নবম অনুচ্ছেদে বলা হয় যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ¬øবী কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপর তাহাদের কার্যকরী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করিয়াছে। সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকার বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়াছেন সেই ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আমাদের সমবায়ে গণপরিষদ গঠন করিয়া পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা আমাদের পবিত্র কর্র্তব্য- সেইহেতু আমরা বাংলাদেশকে রূপায়িত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করিতেছি এবং উহা দ্বারা, পূর্বাহ্নে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করিতেছি। এতদ্বারা আমরা আরো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতেছি যে, শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন। রাষ্ট্্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদেও অধিষ্ঠিত থাকিবেন। রাষ্ট্রপ্রধানই সর্বপ্রকার প্রশাসনিক ও আইন-প্রণয়নের ক্ষমতার অধিকারী। নবজাত রাষ্ট্রের এই সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা লাভের অদম্য স্পৃহায় মরণপণ যুদ্ধে লিপ্ত সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক জনসাধারণ ও দেশি-বিদেশি সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও নবগঠিত সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান সেনাপতি ভাষণ দেন। এমনিভাবেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সংসদের নেতৃত্বে একটি সাংবিধানিক সরকারের জগৎ সভায় আত্মপ্রকাশ করে। এই সরকার গঠনের ফলে বিশ্ববাসী স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামরত বাঙালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুজিব নগর সরকার গঠন বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবগাথা সাফল্যের স্বাক্ষর বটে। এই ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত দিনটিকে প্রতিবারের ন্যায় সমগ্র দেশবাসীর সাথে একত্রিত হয়ে এবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে স্মরণ ও পালন করবে।

মুজিবনগর সরকার


অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ এডভোকেট-এর বাণীঃ দিবসটি উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ এডভোকেট বলেছেন ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আমি দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। আমি এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আরো স্মরণ করি জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে যাদের নেতৃত্বে মুজিবনগর সরকার পরিচালিত হয়েছিল। সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করি স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক সংগঠকসহ সকল স্তরের জনগণকে আমি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। তিনি বলেন, আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৭১ সালে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে মুজিবনগর সরকার শপথ নেয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাসহ বিশ্ব দরবারে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টি এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার পরিচালনায় নবগঠিত এ সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সরকারের যোগ্য নেতৃত্ব ও দিক নির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধ দ্রুত সফল পরিসমাপ্তির দিকে এগিয়ে যায়। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ আমাদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাই মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব ও অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে দিনবদলের সনদ তথা ভিশন-২০২১ ঘোষণা করেছেন। পরিবর্তনের এ অঙ্গিকার বাস্তবায়নে আমি দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানাই। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে দেশের তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানুক এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হোক এই কামনা করি।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণীঃ দিবসটি উপলক্ষে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ স্বাধনিতা সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসে ১৭ এপ্রিল এক চিরভাস্বর অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার আম্রকাননে সরকার শপথ গ্রহণ করে। ঘোষিত হয় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। সেদিন থেকে এ স্থানটি মুজিবনগর নামে পরিচিত লাভ করে। তিনি বলেন, পাকিস্তানি কারাগারে বন্দি জাতির পিতাকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এএইচ কামারুজ্জামানকে মন্ত্রিসভার সদস্য করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। তিনি বলেন, মুক্তিকামী সকল স্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রেখে এই সরকার দীর্ঘ নয় মাস দক্ষতার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। এবং ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি দেশবাসীকে ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক এবং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দেয়া বাণীতে আরও বলেন, ১৯৭১ সালে যারা মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছিল তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচার চলছে এবং রায় দেয়াও শুরু হয়েছে। এ বিচার বাধাগ্রস্ত করতে এবং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতির শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধ্বংস করতে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি মাঠে নেমেছে এ অপশক্তিকে প্রতিহত করতে দেশপ্রেমিক নাগরিকদের একাত্ম হওয়ার আহবান জানাই।


আওয়ামী লীগের কর্মসূচিঃ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দলীয় সূত্র জানায়, এই ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত দিনটিকে প্রতিবারের ন্যায় সমগ্র দেশবাসীর সাথে একত্রিত হয়ে এবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির মধ্যে রযেছে- ভোর ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও কেন্দ্রীয় এবং দেশের সকল জেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে শহীদ জাতীয় নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং রাজশাহীতে এএইচএম কামারুজ্জামান-এর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। মুজিবনগরের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভোর ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ১১টায় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ। সকাল সোয়া ১১টায় গার্ড অব অনার। সকাল সাড়ে ১১টায় মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা মঞ্চে আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও মুজিবনগর দিবস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাসিম। এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার, পল¬øী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি। এছাড়াও মেহেরপুরের অনুষ্ঠানমালায় আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও মুজিবনগর দিবস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র বোস, বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি, শ্রী সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ অংশগ্রহণ করবেন।
১০:১৪ am | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

১৯৫২ সালের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন

Written By James on মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১২ | ৫:০২ pm



পাকিস্থান সৃষ্টির পর পরই রাষ্ট্রভাষা কি হবে সে প্রশ্নে এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলন সংগঠিত হয়। তবে এ আন্দোলন বিনা কারনে হঠাৎ করে এক দিনে সৃষ্টি হয়নি। ১৯৪৭ সালের মে মাসে হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত এক উর্দূ সম্মেলনে সভাপতির ভাষনে কেন্দ্রিয় মুসলীম লীগ নেতা চৌদুরী খালেকুজ্জামান ঘোষনা করেন যে,“উর্দূই হবে পাকিস্থানের রাষ্ট্রভাষা।” একই বছরের জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড: জিয়া উদ্দীন আহমেদও উর্দূর পক্ষে একই মত প্রকাশ করেন। এ সময়ে ভাষাতাত্ত্বিক ড: মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ “আমাদের ভাষা সমস্যা” শিরোনামে এক প্রবন্দ্বেƒ ড: জিয়া উদ্দীনের বক্তব্য খন্ডন করে ভাষার পক্ষে জোড়ালো যুক্তি তুলে ধরেন। একই ভাবে পাকিস্থান প্রতিষ্ঠার পূর্বে পাকিস্থান রাষ্ট্রভাষা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়।

১৯৪৭ সালে ১৪ আগষ্ট সৃষ্টি হলো পাকিস্থান নামক একটি দেশ। পকিস্থান সৃষ্টির ৭ দিন পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুন শিক্ষক আবুল কাশেমের নেতৃত্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট্য “তমুদ্দুন মজলিস” গঠিত হয় যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে হবে। কিন্তু এ দাবী পাকিস্থানী শাষকগোষ্ঠি প্রত্যাখ্যান করে







১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী পাকিস্থান গণপরিষদে প্রথম অধিবেসনে পূর্ব বাংলার প্রতিনিধি কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দূ ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা কে পরিষদের ব্যবহারিক ভাষা হিসাবে গ্রহনের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিক ভাবে উত্থাপন করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রি লিয়াকত আলী খান এ প্রস্তাবের বিরোধীতা করে বলেন, পাকিস্থান মুসলিম রাষ্ট্র হওয়ার দরূন উর্দূই পাকিস্থান একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হতে পরে। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ গঠিত পূর্ব বাংলা মুসলিম ছাত্রলীগ এক ইস্তেহারে বাংলা ভাষার বিরুদ্বেƒ এরূপ ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ১৯ মার্চ তৎকালীন গর্ভনর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব পাকিস্থান সফরে আসেন। তার তিন দিন পর ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় ঘোষনা করেন, “উর্দূ এবং উর্দূই হবে পাকিস্থানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।” তাৎক্ষনিক ভাবে এ ঘোষনার প্রতিবাদ জানানো হয়। এর ৩ দিন পর ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে একই ঘোষনার পুনরাবৃত্তি করলে উপস্থিত ছাত্ররা এ ঘোষনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং শ্লোগান দেয় “না না বাংলাই হবে পাকিস্থানের রাষ্টভাষা।” ঢাকায় অবস্থান কালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছাত্রদের সাথে ভাষা ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে একাধিকবার বৈঠকে বসে কিন্তু ভাষার প্রশ্নে তিনি আপোষ করতে রাজী হননি।



১৯৫০ সালে পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রি লিয়াকত আলী খান গনপরিষদে পাকিস্থানের ভবিষ্যত সংবিধান সস্পর্কে মূল নীতি কমিটির রিপোর্টে উর্দূকে পাকিস্থানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবী করলে পূর্ব বাংলার জনগন তা প্রত্যাখ্যান করে। এ দিকে ১৯৫১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী বাংলা ভাষাভাষি লোকের সংখ্যা ছিল শতকারা প্রায় ৫৪.৬ ভাগ এবং উর্দূ ভাষাভাষির লোকের সংখ্যা ছিল শতকারা মাত্র ৬ ভাগ। পাকিস্থানি শাসকগোষ্ঠি অন্যায় ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগনের ভাষাকে পদদলিত করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করকে চেয়েছিল।

১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারী তৎকালীন পাকিস্থানের গভর্নর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকার পল্টন ময়দানের এক জনসভায় ঘোষনা দেন, “উর্দূই হবে পাকিস্থানের রাষ্টভাষা।” ফলে ছাত্র-শিক্ষক বুদ্দি¦জীবী মহলে দারুন ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং আন্দোলন তীব্র আকার ধারন করে। আন্দোলনের অংশ হিসাবেই ৩০ জানুয়ারী ঢাকায় সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়ওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। পর দিন ৩১ জানুয়ারী ঢাকার বার লাইব্রেরী হলে কাজী গোলাম মাহাবুব কে আহবায়ক করে আওয়ামী মুসলিমলীগ, যুবলীগ, খিলাফত-ই-রাব্বানী পার্টি, ছাত্রলীগ, ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদের সদস্যদের নিয়ে একটি সর্ব দলীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় “সর্ব দলীয় সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয়। এ সভায় স্থির হয় যে, ২১ ফেব্রুয়ারী প্রদেশব্যাপী “রাষ্ট্রভাষা দিবস” পালন করা হবে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়রী রাষ্ট্রভাষা দিবস কর্মসূচী কে সফল করে তুলার জন্য ৪ ফেব্রুয়ারী হরতাল এবং ১১ ও ১৩ ফেব্রুয়ারী সাফল্যের সাথে “পতাকা দিবস” পালিত হয়। কারাগারে আটক অবস্থায় ১৬ ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রভাষা বাংলা ও রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে শেখ মুজিবর রহমান এবং আওয়ামীলীগ নেতা মহি উদ্দিন আহমেদ আমরন অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। অন্যদিকে “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” ব্যাজ বিক্রি করে ২১ ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের জন্যে ছাত্র-ছাত্রীরা অর্থ সংগ্রহ শুরু করে।
নুরুল আমিনের ক্ষমতাসীন সরকার ২০ ফেব্রুয়ারী এক আকষ্কিক ঘোষনার মাধ্যমে বিকেল থেকে ঢাকা শহরে পরবর্তী একমাসের জন্যে ১৪৪ ধারা জারী করে সকল প্রকার সভা, শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষনা করেন। সংগামী ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে শোভযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।

পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারী তারিখে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ছোট ছোট শোভাযাত্রা সহ ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের পুরানো কলা ভবন প্রঙ্গনে মিলিত হয়। ছাত্র নেতা গাজীউল হকের সভাপতিত্ত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন প্রঙ্গনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে শোভাযাত্রা সহ মায়ের ভাষা বাংলা কে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি পেশ করার জন্য প্রাদেশিক পরিষদ ভবনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে গেটের সশস্র পুলিশ প্রহরা ভেদ করে অসংখ্য দলে দলে বিভক্ত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা শান্তিপূর্ন ভাবে এগিয়ে চলতেে থাকে। মুখে ছিল তাদের একটাই শ্লোগান, “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।” শান্তিপূর্ন এ মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে পৌছালে পুলিশ গুলিবর্ষন সহ নির্বিচারে লাঠিচার্জ শুরু করলে রফিক, শফিক, সালাম, বরকাত ও জব্বার সহ নাম না জানা অনেক তরুন তরুনী নিহত হয় এবং ক’য়েক শ ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়। বাংলার জাতীয় ইতিহাসে রচিত হয় এক রক্তাক্ত অধ্যায়।
৫:০২ pm | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ (২১ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন এর দিন যা ঘটেছিল )



ঢাকা: ২০ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় ঘোষনা আসে পরদিন অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারী ১৪৪ ধারা জারী করা হয়েছে। এদিকে ২১ ফেব্রুয়ারী ছিল সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পূর্ব ঘোষিত হরতাল। হরতালকে প্রতিহত করতেই এই ১৪৪ ধারা জারী করা হয়।


পহেলা ফেব্রুয়ারী থেকেই হরতাল সফল করার প্রস্তুতি নেয়া হয় কিন্তু হঠাৎ করে সরকারের এ ঘোষনার কারনে ছাত্র নেতারা হতাশ হয়ে পড়েন। সে সময় তারা হরতাল বাতিল ও ১৪৪ ধারা না ভঙার সিদ্ধান্ত নেন। রাত ১০ টার দিকে এই সিদ্ধান্তের কথা মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হয়। একই দিকে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কর্মপরিষদের সদস্য নন এমন কয়েকজন নেতা কে জানিয়ে দেয়া হয় যে, রাতেই তৎকালীন ঢাকা হলের পুকুড়ের পূর্ব পাড়ের সিড়িতে জরুরী গোপন বৈঠক হবে।


রাত ১২ টায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন : গাজিউল হক (আইনজীবী), হাবিবুর রমান (বিচার পতি) মোহাম্মদ সুলতান, এম,আর আখতার মুকুল, জিল্লুর রহমান, আব্দুল মোমিন, এস এ বারী, সৈয়দ কামরুদ্দীন হোসেইন শহুদ, আনোয়ারুল হক খান, মঞ্জুর হোসেন ও আনায়ার হোসেন।


বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় পরের দিন আমতলায় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন গাজিউল হক। যদি তিনি গ্রেফতার হন তবে সভাপতিত্ব করবেন এম আর অখতার মুকুল এবং তাকেও যদি গ্রেফতার করা হয় তবে সভাপতিত্ব করবেন কামরু উদ্দীন শহুদ। এ সময় আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, সভাপতি হিসাবে গাজিউল হক ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে বক্তব্য রাখবেন এবং ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে সিদ্ধান্ত জানিয়ে সভার কাজ শেষ করবেন।


২১ ফেব্রুয়ারী
২১ ফেব্রুয়ারী, বৃহস্পতিবার, ১৯৫২ সাল। ২০ ফেব্রুয়ারী রাতে হরতাল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পরদিন সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। শুধু বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়াম মাঠটিতে সকাল থেকে কয়েক হাজার পুলিশ জামায়েত হতে থাকে। সঙ্গে থাকে পুলিশের স্পেশাল টিয়ার গ্যাস স্কোয়াড।


সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট মিছিল এসে জমা হতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে। তখন পর্যন্ত পুলিশ কোন বাধ দেয় নি। চার পাশের বিভিন্ন হলের ছাত্ররা ধীরে ধীরে এসে জমা হতে থাকে। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা দাড়ায় প্রায় ১০ হাজারে। চারদিকে ছাত্র-ছাত্রীদের ’রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগান। পুলিশ তাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে নির্দেশের জন্য অপেক্ষায় ছিল।


এসবের মধ্যেই গাজিউল হককে সভাপতি করে সভা শুরু হয়। প্রথম বক্তব্য রাখেন সর্বদলীয় কর্ম পরিষদেও সদস্য শামসুল হক, তিনি ১৪৪ ধারা না ভাঙার পক্ষে বক্তব্য রাখেন। যদিও তিনি বক্তব্যের শেষে আন্দোলনের প্রতি পূর্ন সমর্থন ব্যক্ত করেন। এরই মধ্যে খবর আসে, লালবাগ এলাকায় স্কুল শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠি চার্জ করছে। ফলে উত্তেজনা তখন চরমে ওঠে।এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক আব্দুল মতিন এবং সভাপতি গাজিউল হক উভয়েই ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে বক্তব্য রাখেন এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। চার দিক কাপিয়ে শ্লোগান ওঠে ১৪৪ ধারা মানি না , মানবো না।


এই শ্লোগান চলার সময় আবদুস সামাদ আজাদ কী ভাবে ১৪৪ ধারা ভাঙা হবে তার একটি প্রস্তাব পেশ করেন। এ প্রস্তাব কে বলা হয় বিখ্যাত ১০ জনী মিছিল। তার মতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী একত্রে মিছিলে নামলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তাই প্রতি দফায় ১০ জন করে রাস্তায় মিছিল বের করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী এ বক্তব্য সমর্থন করেন এবং কলাভবনের গেট খুলে দেয়ার নির্দেশ দেন।


এরপর শুরু হয় ছাত্র-ছাত্রীদের ১০ জনের মিছিল। প্রথম দলের নেতৃত্বে ছিলেন হাবীবুর রহমান (পরবর্তী কালে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচার পতি ও তত্ত্বাবধায়ক প্রধান উপদেষ্টা এবং পরে রাষ্ট্রপিত)। দ্বিতীয় দলে ছিলেন আবদুস সামাদ আজাদ ও ইব্রাহীম তাহা। তৃতীয় দলে আনোয়ারুল হক খান এবং আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান। এই ১০ জনের মিছিলে যারা গ্রেফতার হচ্ছিল তাদের তালিকা তৈরীর দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান এবং কাজী আজাহার। চতুর্থ দফায় মেয়েদের একটি মিছিল স্বেচ্ছায় কারাবরনের উদ্দেশ্যে রাস্তায় নেমে আসার পরপরই ছাতদের অনেক গুলো মিছিল একে একে বের হয়ে আসতে শুরু করে।


এমন সময় পুলিশ আকস্মিক ভাবে মিছিলের উপর লাঠিচার্জ ও অবিরাম কাদানো গ্যাস নিক্ষেপ করতে শুরু করে। কাদানো গ্যাসের ধোয়ায় ছেয়ে যায় চাদিক। ছাত্ররা দৌড়ে কলা ভবনের পুকুড়ে এসে রোমাল ভিজিয়ে চোখ মুছে আবার মিছিলে যোগ দেয়। এমনি সময়ে একটি টিয়ারশেল সরাসরি গাজিউল হকের বুকে এসে আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোতলায় মেয়েদের কমন রুমে তাকে রেখে আসা হয়। বেলা প্রায় ২টা কলাভবন এলাকায় ছাত্র-পুলিশ সংঘর্স চলতে থাকে।


তখ নপর্যন্ত ঢাকার অন্যান্য স্থানে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও বিশ্বদ্যিালয় এলাকায় একদিকে চলতে থাকে পুরিশের লাঠিচার্জ আর আরেক দিকে ছাত্রদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। এ পরিস্থিতে ছাত্ররা যতায়তের সুবিধার জন্য কলা ভবন ও মেডিকের কলেজ হাসপাতালের মধ্যবর্তী দেয়াল ভেঙে দেয়। ফলে কিছুক্ষনের মধ্যেই পুলিমের সঙ্গে ছাতদের সংঘর্ষের দিক পরিবর্তিত হয়। ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে সংঘর্ষ। এ সময় পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচর্জে আহত হন বহু ছাত্র।


এমনই সময় কোন পূর্ব সংকেত ছাড়াই সশস্র পুলিশ জেলা মেজিস্ট্রেট কোরেশির নির্দেশে দৌড়ে এসে জগন্নাথ হল প্রাঙ্গনে অবস্থান নিয়ে গুলি ফায়ার করে। চারদিকে টিয়ার গ্যাসের ধোয়ার ভেতর কিছু বুঝে ওঠার আগেই কিছু তাজা পাণ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল, অনেক আহত হয়, বাকিরা বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। তখন সময় বেলা ৩ টা ১০মিনিট আর দিনটি ২১ ফেব্রুয়ারী, বৃহস্পতিবার।


একটি লাশের মাথার অর্ধেকটাই গুলিতে ্্উড়ে যায়। পরে যানা যায়, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আবুল বরকত। সে সময় পর্যন্ত ঘটনাস্থলে নিহতের সংখ্যা ছিল ২ এবং আহত ৯৬। সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে মারা যান আরো দুজন। এরা হলেন শহীদ জব্বার ও রফিক উদ্দিন।


২১ ফেব্রুয়ারীর গুলিবর্ষনে শহীদ হওয়া ৪ জনের মধ্যে তিনজন ছাত্র। এরা হলেন বরকত, জব্বার, ও রফিক উদ্দিন। আপর জন শহীদ সালাম যিনি বাদামতলী একটি প্রেসের কর্মচারী ছিলেন। তাছাড়া অহিউল্লাহ নামে ৯ বছরের একটি শিশু পুলিশের গুরিতে মারা যায়।


উল্লেখ্য, অব্দুস সালাম ২১ ফেব্রুয়ারী ১৪৪ ধারা ভঙের মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিমের গুলিতে আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একমাসসের অধিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর ১৯৫২ সালের ১৭ এপ্রিল তিনি মারা যান।


ছাত্রদে মিছিলে পুলিশের গুরিবর্ষনের ঘটনা ঢাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার সাধারণ জনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে জড়ো হতে থাকে। গুলি বর্ষনের সংবাদ আইন পরিষদে পৌছালে ধীরৈন্দ্র নাথ দত্তের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলার ছয় জন আইন পরিষদ সদস্য আইন পরিষদ মূলতবী করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে আহত ছাত্রদের দেখতে যাবার জন্য নুরুল আমীনকে অনুরোধ করেন। সরকারী দলের সদস্য আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশও এই প্রস্তাবের সপক্ষে উচ্চকন্ঠ হন। কিন্তু নূরুল আমীন সকল দাবি উপেক্ষা করে আইন পরিষদের অধিবেশন চালানোর নির্দেশ দেন। এর প্রতিবাদে পূর্ব বাংলার সদস্যরা পরিষদ ওয়াক আউট করেন। রাতের বেলা ছাত্র নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে ঢাকা শহরের প্রতিটি মসজিদে ও কাবে পরদিন সকালে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়েত হবার আহবানসম্বলিত লিফলেট বিলি করা হয়। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারী করে সকল সভা- সমাবেশ নিষিদ্ধ করে।






সূত্র: লেখাটি এম আর আখতার মুকুল রচিত একুশের দলিল বই থেকে সংকলিত।
৪:৪৪ pm | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

একুশের ৬০ বছরে ৬ ভাষাসংগ্রামী - প্রথম আলো



ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছরপূর্তি উপলক্ষে প্রথম আলোর আমন্ত্রণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্মৃতিচারণ করে
ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছরপূর্তি উপলক্ষে প্রথম আলোর আমন্ত্রণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্মৃতিচারণ করেন ছয় ভাষাসংগ্রামী (বাঁ থেকে) আহমদ রফিক, সাঈদ হায়দার, হালিমা খাতুন, আবদুল মতিন, সুফিয়া আহমেদ ও মুর্তজা বশীর
ছবি: প্রথম আলো
গাড়ি দুটি যখন শহীদ মিনারের সামনে এসে থামল, তখন বেলা সাড়ে এগারোটা। আকাশ মেঘলা। যেন ভাষাসংগ্রামীদের প্রতি ছায়ার সুশীতল পরশ দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে প্রকৃতি।
গাড়ি থেকে নামলেন ছয়জন—আবদুল মতিন, সাঈদ হায়দার, আহমদ রফিক, হালিমা খাতুন, মুর্তজা বশীর ও সুফিয়া আহমেদ। ভাষা আন্দোলনের ষাট বছর পর এখানে আবার তাঁরা একসঙ্গে। সে কথাই বললেন আহমদ রফিক, ‘ভালো লাগছে। ষাট বছর পর সহযাত্রী অনেককে কাছে পেয়ে ভালো লাগাটাই স্বাভাবিক। এখানেই আমরা শুরু করেছিলাম, এখানেই ফিরে এলাম, তারপর কোথায় যাওয়া, জানা নেই।’
আশির বেশি বা কাছাকাছি বয়সের ছয়জন মানুষকে দেখে পথচারী কেউ কেউ থমকে দাঁড়ায়। অনুমান করার চেষ্টা করে তাঁদের পরিচয়। তারপর কাছে আসে। ছোট একটা নীরব জটলা সৃষ্টি হয় ভাষাসংগ্রামীদের সামনে। ভাষা মতিনের কাছেই আমাদের জানতে চাওয়া, ‘আপনাদের স্বপ্ন কত দূর সফল হয়েছে? কত দিন পর আপনারা একসঙ্গে হলেন?’
‘মাঝে মাঝে কারও কারও সঙ্গে দেখা হয়। মূলত এই ভাষার মাসে। তবে জনগণের সঙ্গে একাত্ম হওয়াটা জরুরি। সব আশা তো পূরণ হয় না। যা হয়, তা অতি সামান্য। এখন একটু একটু করে হলেও কিছু কাজ হচ্ছে, সেটুকুই সান্ত্বনা। না হলেই বা কী করতাম!’
একই প্রশ্নের জবাবে আহমদ রফিক বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪০ বছরে দেশের যে পরিবর্তন হওয়া উচিত ছিল, তার পুরোটা হয়নি, বলব, আংশিক পরিবর্তন হয়েছে। এখনকার যারা তরুণ, তাদের ওপর আমাদের ভরসা, তাদের ওপরই এই সামাজিক দায়বদ্ধতা, তারাই বাকি কাজটুকু করবে। এটাই আমার প্রত্যাশা।’
সুফিয়া আহমেদ বললেন, ‘৬০ বছর পর মনে হচ্ছে, আমাদের ভাগ্য ভালো, এখনো বেঁচে আছি। আমি তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতাম। দেখেছি, পড়াশোনার মান কমে যাচ্ছে।’
আলোচনাটি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির দিকে মোড় নেয় কিছুক্ষণের জন্য। হালিমা খাতুনের কণ্ঠে যেন তারই ইঙ্গিত, ‘যখনই এখানে আসি, তখনই সেদিনের কথা মনে পড়ে। কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এসেছিলাম সেই সভায়। ‘চলো চলো অ্যাসেমব্লি চলো’ স্লোগানটা এখনো কানে লেগে রয়েছে। আমরা রাষ্ট্রভাষা পেয়েছি, স্বাধীনতা পেয়েছি। অনেক সম্পদের মালিক এখন আমরা। কিন্তু মনে হচ্ছে, মানুষের মধ্যে একুশের চেতনা সেভাবে নেই। রাজনীতি কলুষিত হয়ে গেছে, অর্থনীতিও অমাবস্যায় ঢেকে গেছে। এগুলো সুস্থ করতে হলে মানুষকে সুস্থ করতে হবে আগে। মানবিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে। নইলে একুশে ফেব্রুয়ারি আসবে-যাবে, অনেক অঙ্গীকার করা হবে, কিন্তু কাজ কিছুই হবে না।’
মুর্তজা বশীরের কণ্ঠেও কি হতাশার সুর? তিনি বলছেন, ‘আমি একাত্তর সাল পর্যন্ত শহীদ মিনারে আসতাম। এরপর আর আসি না। এখানে এলে মনে হয় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছি। মনে হয়, এখানে ভাষাশহীদ বরকত-জব্বার-শফিকেরা আমার বিচার করছেন। যে কারণে তাঁরা আত্মোৎসর্গ করলেন, আমরা যে শপথ বা অঙ্গীকার করলাম, তা থেকে কতটা সরে গেছি, সেটা যখন মনে হয়, তখন নিজেকে কাপুরুষ ছাড়া আর কিছু মনে হয় না। যে কারণে তাঁরা জীবন দান করেছিলেন, সেই আর্থসামাজিক মুক্তি এখনো হয়নি।’
সাঈদ হায়দার অবশ্য অতটা নিরাশাবাদী নন। বললেন, ‘কিছু যে হয়নি, তা নয়। পাকিস্তান আমলেই রাষ্ট্রভাষা বাংলা হয়েছে, তবে তা নামকাওয়াস্তে। দেশ স্বাধীন হওয়ার বীজ প্রোথিত হয়েছিল বায়ান্ন সালে। আন্দোলনের পর আন্দোলন করে পাকিস্তানিদের পরাজিত করেছি আমরা। তার পরও সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন হয়নি। স্বাধীন হওয়ার পর সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে অনেক কিছুই বাংলা হয়েছিল। আমাদের আন্দোলনটা তো শুধু ভাষার আন্দোলনই ছিল না, তার সঙ্গে সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যাপারও ছিল। আজকের তরুণ আমাদের প্রশ্ন করে, একটা অস্থিরতার মধ্যে আমাদের রেখে চলে যাচ্ছেন? তাদের উত্তর দিই, আমরা কি তোমাদের কিছুই দিয়ে যাইনি?’
স্মৃতিতে একুশের অ্যালবাম
যে তরুণ-তরুণীরা এতক্ষণ একটু দূরে দাঁড়িয়ে কথা শুনছিল, তারা এবার এগিয়ে আসে। একজন প্রশ্ন করে, ‘কোথায় গুলি চলেছিল, আপনারা কি একটু বলবেন?’
এবার তাঁরা যেন ফিরে যান ১৯৫২ সালে। স্মৃতিতে জমা হওয়া একুশের অ্যালবামটি খুলে ধরেন ওদের সামনে। সকালে আমতলার সভা, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার কথা বলেন।
সাঈদ হায়দার: বায়ান্ন সালে আন্দোলন যখন তুঙ্গ পর্যায়ে, তখন মেডিকেল ব্যারাক থেকেই আন্দোলন পরিচালনা করা হয়েছিল। চার একর জমির ওপর ২০টা ব্যারাক ছিল। প্রতিটা ব্যারাকে পাঁচটা করে ঘর ছিল, কোনোটায় ছয়টা করে।
আহমদ রফিক: বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় ছিল, মেডিকেল কোথায় ছিল, গণপরিষদ কোথায় ছিল, তার কি কোনো অস্তিত্ব আছে এখন? ফলক তৈরি করতে কয় টাকা লাগে?
সুফিয়া আহমেদ: আমরা তিন-চার বছর আগে সরকারকে বলেছি শহীদ মিনারকে সংরক্ষিত এলাকা করতে। জনগণ এখানে আসবে, কিন্তু তারও একটা নিয়ম থাকবে। এটা কিন্তু পবিত্র স্থান।
আহমদ রফিক: শোনো, গুলি কোথায় হয়েছিল এই বরাবর যদি তাকাও, তাহলে দেখবে রাস্তার দুপাশেই ব্যারাক ছিল। তিনি হাত দিয়ে দেখান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরের দিকে। বলেন, ‘গেট দিয়ে ঢুকতেই ১২ নম্বর ব্যারাক ছিল ডান দিকে। তার সামনে বরকত গুলিবিদ্ধ হন। লম্বালম্বি এই দিকটায় ছিল ২০ নম্বর ব্যারাক, এর সামনে আবদুল জব্বার গুলিবিদ্ধ হন। আরেকটু সামনে এখন যে মেডিকেল গেটটা, এর মাঝামাঝি জায়গায় ১৪ নম্বর ব্যারাকের সামনে রফিকের শরীরে গুলি লাগে। তারও সামনে ৬ নম্বর ব্যারাকের কাছে সালাম গোড়ালিতে গুলিবিদ্ধ হন। এখানে দুটি রাস্তা ছিল—সেক্রেটারিয়েট রোড আর ফুলার রোড। এখনকার জগন্নাথ হলের জায়গাটায় ছিল পরিষদ ভবন।’
সুফিয়া আহমেদ: এখন যেটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, সেখানেই ছিল আমতলা। সেই গেটেই ব্যারিকেড ছিল। সেখান দিয়েই আমরা বের হয়েছিলাম। সেখানে এখনো ফলক নেই।
সাঈদ হায়দার: হামিদুর রহমান যে পরিকল্পনাটি করেছিলেন, সেই পরিকল্পনায় অনেক কিছু ছিল। একটা জাদুঘরও ছিল। কিন্তু সেটা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
যোগসূত্রের সন্ধানে
আবদুল মতিন: আমরা এখনকার তরুণদের জানি না, তারাও আমাদের জানে না। আমাদের মধ্যে যোগসূত্র নেই।
হালিমা খাতুন: ইতিবাচক চেষ্টাটা থাকতেই হবে। তরুণদের ক্লাস নেওয়ার সময় সেই ইতিবাচক দিকগুলো জানাতে হবে। সেভাবেই সমাজটাকে গড়ে তুলতে হবে। ওদের শেখাতে হবে। যিনি শেখাবেন, তাঁকেও শেখাতে হবে।
মুর্তজা বশীর: বাঙালি জাতির অহংকারকে আমরা শিক্ষার বিষয় করে তুলিনি। আমাদের পাঠ্যক্রমেও জাতির অহংকার নিয়ে লেখা থাকতে হবে। তাহলেই কেবল শিশুরা বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি নিয়ে জানবে।
সময় গড়িয়ে যেতে থাকে। ফাগুনের লাল পলাশ-শিমুল-কৃষ্ণচূড়ায় বাতাস এসে দোল দিয়ে যায়। একটু একটু বৃষ্টি শুরু হয়। উপস্থিত তরুণদের কাছ থেকে বিদায় নেন ভাষাসংগ্রামীরা। এবার তাঁদের চলার পথ সহজ করে দিতে এই তরুণদেরই কেউ কেউ তাঁদের হাত ধরে। ভাষাসংগ্রামীদের একজন বলেন, ‘আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার দরকার নেই।’
ওরা বলে, ‘আসলে আমরা আপনাদের একটু স্পর্শ চাই। স্পর্শ।’
এভাবেই বুঝি তৈরি হয় যোগসূত্র।

ভাষাসংগ্রামীদের পুরো আলোচনাটি পড়ুন ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ এর প্রথম আলোর ছুটির দিনে ম্যাগাজিনে


প্রকাশিত - প্রথম আলো
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-02-21/news/226614
৪:১৫ pm | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে শেখ হাসিনার বাণী

Written By James on সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১ | ৮:১১ pm


১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১০ এপ্রিল ১৯৭১-এ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক করে গঠিত হয় বিপ−বী সরকার। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরেরমুজিব নগরে বিপ−বী সরকার শপথ গ্রহণ করে। ১৯৭০ সনের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভ করে। কিন্তু ইয়াহিয়া সরকার
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর না করে তালবাহানার আশ্রয় নেয়।বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঐতিহাসিক জনসভায় ঘোষণা দেন ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বঙ্গবন্ধুর ঐ ঘোষণাই মুলত: স্বাধীনতার ঘোষণা। বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন শুরু এবং দেশে বিকল্প আওয়ামী লীগের সরকার পরিচালনা করেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই তখন দেশ পরিচালিত হত। এ অবস্থায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙ্গালির উপর আঘাত হানে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চ প্রত্যুষে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার অপরাধে ইয়াহিয়া সরকার বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে।বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে বিপ−বী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক পদেদায়িত্ব দেয়া হয়। জনাব তাজউদ্দিন আহমেদ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, জনাব এম. মুনসুর আলীওজনাব এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান প্রমুখকে মন্ত্রী করে উক্ত বিপ−বী সরকার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার আম বাগানেশপথ গ্রহণ করেন। এই বিপ−বী সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মুক্তিযুদ্ধ, রাজনৈতিক কর্মকান্ড, কূটনৈতিক ও প্রচার ক্ষেত্রে বিশ্ব জনমত গঠন এবং এক কোটি উদ্বাস্তুর পুর্নবাসন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেছিলেন। মুজিবনগর সরকারের
দূরদৃষ্টি ও দক্ষতার ফলে মাত্র নয় মাসে বাংলাদেশ পাকিস্তানের দখলদার বাহিনীকে অস্ত্রসমর্পণে বাধ্য করে।

আমি মুজিবনগরের বিপ−বী সরকারের কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত পরলোকগত এবং জীবিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সেনাকর্মকর্তা ও সদস্য, প্রশাসনকি কর্মকর্তা, বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ, কূটনৈতিকবৃন্দ এবং বিদেশী বন্ধুদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছি। একই সাথে মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।এবারের মুজিবনগর দিবসে মুক্তিযুদ্ধের মহত্ত্বর অর্জনসমূহকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বানজানাচ্ছি। আসুন আমরা সকলে মিলে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ দেশকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌছে দিতে সচেষ্ট হই। গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে দায়িত্ববান হয়ে চুড়ান্ত সাফল্যের পথে এগিয়ে যাই।
মুজিব নগর দিবস অমর হোক।



খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
---------------------------


তথ্যসূত্র :- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

৮:১১ pm | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা


রাষ্ট্রপতি :- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি :- সৈয়দ নজরুল ইসলাম

প্রধানমন্ত্রী :- তাজউদ্দীন আহমদ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী :- খন্দকার মোশতাক আহমদ

অর্থমন্ত্রী :- মনসুর আলী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী :- এইচ এম কামরুজ্জামান

প্রধান সেনাপতি :- এম এ জি ওসমানী

মুখ্য সচিব :- রুহুল কুদ্দুস

সংস্থাপনসচিব :- নূরুল কাদের খান

মন্ত্রিপরিষদসচিব :- এইচ টি ইমাম

তথ্যসচিব :- আবদুস সামাদ আনোয়ারুল হক খান
(১৪ অক্টোবর থেকে )

অর্থসচিব :- খোন্দকার আসাদুজ্জামান

পররাষ্ট্রসচিব :- মাহবুবুল আলম চাষী

স্বরাষ্ট্রসচিব :- এম এ খালেক

কৃষিসচিব :- নূরউদ্দিন আহমদ

প্রতিরক্ষাসচিব :- আবদুস সামাদ

আইনসচিব :- এ হান্নান চৌধুরী

শিক্ষা উপদেষ্টা :- কামরুজ্জামান এমএনএ

তথ্য, বেতার, ফিল্ম, আর্ট ও ডিজাইন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত :- আবদুল মান্নান এমএনএ

পরিকল্পনা কমিশন চেয়ারম্যান :- ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী

সদস্যরা :-
ড. স্বদেশ বসু
ড. মুশাররফ হোসেন
ড. আনিসুজ্জামান
ড. সারওয়ার মুরশিদ
৭:৪২ pm | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র

Written By James on বুধবার, ৬ জুলাই, ২০১১ | ৪:৩৭ pm


বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৭১ সালের এপ্রিল ১৭ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত একটি ঘোষণাপত্র। যতদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলেছে ততদিন মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে এই ঘোষণাপত্র কার্যকর ছিল। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হওয়ার পরও এই ঘোষণাপত্র সংবিধান হিসেবে কার্যকর ছিল। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর ১৬ তারিখে যখন দেশের নতুন সংবিধান প্রণীত হয় তখন সংবিধান হিসেবে এর কার্যকারিতার সমাপ্তি ঘটে।
(১) ইতিহাস

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ঢাকা এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্যান্য অংশে আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক গণহত্যা চালায়। এই গণগত্যার প্রাক্কালে তৎকালীন আওয়ামী লিগ নেতৃবৃন্দ, গণপরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যগণ নিরাপত্তার জন্য সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। ৩০ মার্চের মধ্যেই তাদের অনেকে কলকাতায় সমবেত হন। প্রাদেশিক পরিষদের যেসকল সদস্য ১০ এপ্রিলের মধ্যে কলকাতায় মিলিত হতে সমর্থ হন তারা তারা ঐদিনই একটি প্রবাসী আইন পরিষদ গঠন করে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের খসড়া প্রণয়ন করেন। এপ্রিল ১৭ তারিখে মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী স্থান বৈদ্যনাথতলায় (পরবর্তী নাম মুজিবনগর) এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে গণপরিষদের সদস্য এম ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে নবগঠিত প্রবাসী আইন পরিষদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে। এদিনই ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়া হয় এবং একই সাথে ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কার্যকর হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়। এর ফলে প্রবাসী মুজিবনগর সরকারও বৈধ বলে স্বীকৃত হয়। এ ঘোষণায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকলের মধ্যে চেইন অফ কমান্ড স্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়।
(২) ঘোষণাপত্রের পূর্ণ বিবরণ

মুজিবনগর, বাংলাদেশ

তারিখ: ১০ এপ্রিল ১৯৭১

যেহেতু ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়েছিল; এবং

যেহেতু এই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় ১৬৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিল;

এবং

যেহেতু জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সনের ৩রা মার্চ তারিখে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধিবেশন আহ্বান করেন; এবং

যেহেতু তিনি আহূত এই অধিবেশন স্বেচ্ছার এবং বেআইনীভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন; এবং

যেহেতু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করার পরিবর্তে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পারষ্পরিক আলোচনাকালে ন্যায়নীতি বহির্ভূত এবং বিশ্বাসঘাতকতামূলক যুদ্ধ ঘোষণা করেন; এবং

যেহেতু উল্লিখিত বিশ্বাসঘাতকতামূলক কাজের জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান; এবং

যেহেতু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বর্বর ও নৃশংস যুদ্ধ পরিচালনা করেছে এবং এখনও বাংলাদেশের বেসামরিক ও নিরস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন গণহত্যা ও নির্যাতন চালাচ্ছে; এবং

যেহেতু পাকিস্তান সরকার অন্যায় যুদ্ধ ও গণহত্য এবং নানাবিধ নৃশংস অত্যাচার পরিচালনার দ্বারা বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিদের পক্ষে একত্রিত হয়ে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব কে তুলেছে; এবং

যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপর তাদের কার্যকরি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে;

সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন সে ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আমাদের সমবায়ে গণপরিষদ গঠন করে পারষ্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে

বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা করছি এবং এর দ্বারা পূর্বাহ্নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করছি; এবং

এতদ্বারা আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন; এবং

রাষ্ট্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন; ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতাসহ সর্বপ্রকার প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতার অধিকারী থাকবেন; এবং

তাঁর কর ধার্য ও অর্থব্যয়ের ক্ষমতা থাকবে; এবং

বাংলাদেশের জনসাধারণের জন্য আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতারও তিনি অধিকারী হবেন।

বাংলাদেশের জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, কোন কারণে যদি রাষ্ট্রপ্রধান না থাকেন অথবা যদি রাষ্ট্রপ্রধান কাজে যোগদান করতে না পারেন অথবা তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে যদি অক্ষম হন, তবে রাষ্ট্রপ্রধান প্রদত্ত সকল দায়িত্ব উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পালন করবেন। আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, বিশ্বের একটি জাতি হিসাবে এবং জাতিসংঘের সনদ মোতাবেক আমাদের উপর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তেছে তা যথাযথভাবে আমরা পালন করব। আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, আমাদের এই স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সনের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, আমাদের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য আমরা অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলীকে যথাযথভাবে রাষ্ট্রপ্রধান ও উপ-রাষ্ট্রপ্রধানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য দায়িত্ব অর্পণ ও নিযুক্ত করলাম।

স্বাক্ষর: অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী

বাংলাদেশ গণপরিষদের ক্ষমতা দ্বারা

এবং ক্ষমতাবলে যথাবিধি সর্বাধিক ক্ষমতাধিকারী।
(৩) আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ ১৯৭১

বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে প্রদত্ব ক্ষমতাবলে একটি দিনে আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ নামে একটি আদেশ জারি করেন। ঘোষণাপত্রের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা রক্ষার্থে এই আদেশ বলবৎ করা হয়।
(৩.১) পূর্ণ বিবরণ

আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ ১৯৭১

মুজিবনগর, বাংলাদেশ, ১০ এপ্রিল ১৯৭১, শনিবার ১২ চৈত্র ১৩৭৭

আমি বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে এ আদেশ জারি করছি যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একইভাবে চালু থাকবে, তবে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের জন্য করা যাবে। এই রাষ্ট্র গঠন বাংলাদেশের জনসাধারণের ইচ্ছায় হয়েছে। এক্ষণে, সকল সরকারি, সামরিক, বেসামরিক, বিচার বিভাগীয় এবং কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী যারা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেছেন, তারা এতদিন পর্যন্ত নিয়োগবিধির আওতায় যে শর্তে কাজে বহাল ছিলেন, সেই একই শর্তে তারা চাকুরিতে বহাল থাকবেন। বাংলাদেশের সীমানায় অবস্থিত সকল জেলা জজ এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সকল কূটনৈতিক প্রতিনিধি যারা অন্যত্র অবস্থান করছেন, তারা সকল সরকারি কর্মচারীকে স্ব স্ব এলাকায় আনুগত্যের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন।

এই আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়েছে বলে গণ্য করতে হবে।

স্বাক্ষর:- সৈয়দ নজরুল ইসলাম
 রাষ্ট্রপতি (
ভারপ্রাপ্ত) এবং উপ-রাষ্ট্রপতি


(৪)তথ্যসূত্র

* বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র, তৃতীয় খণ্ড, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা, ১৯৮২, পৃষ্ঠা ৪-৭

[ বাংলা উইকিপিডিয়া হতে জিএফডিএল এর অধীনে প্রদত্ত ]
৪:৩৭ pm | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

 

Published by Mujibnagar | Contact Us | Bagladesh Company | Bangladesh History | Bagladesh Tech | Famous Bengali Personality