একুশে ফেব্রুয়ারী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
একুশে ফেব্রুয়ারী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৯৫২ সালের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন

Written By James on মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১২ | ৫:০২ PM



পাকিস্থান সৃষ্টির পর পরই রাষ্ট্রভাষা কি হবে সে প্রশ্নে এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলন সংগঠিত হয়। তবে এ আন্দোলন বিনা কারনে হঠাৎ করে এক দিনে সৃষ্টি হয়নি। ১৯৪৭ সালের মে মাসে হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত এক উর্দূ সম্মেলনে সভাপতির ভাষনে কেন্দ্রিয় মুসলীম লীগ নেতা চৌদুরী খালেকুজ্জামান ঘোষনা করেন যে,“উর্দূই হবে পাকিস্থানের রাষ্ট্রভাষা।” একই বছরের জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড: জিয়া উদ্দীন আহমেদও উর্দূর পক্ষে একই মত প্রকাশ করেন। এ সময়ে ভাষাতাত্ত্বিক ড: মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ “আমাদের ভাষা সমস্যা” শিরোনামে এক প্রবন্দ্বেƒ ড: জিয়া উদ্দীনের বক্তব্য খন্ডন করে ভাষার পক্ষে জোড়ালো যুক্তি তুলে ধরেন। একই ভাবে পাকিস্থান প্রতিষ্ঠার পূর্বে পাকিস্থান রাষ্ট্রভাষা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়।

১৯৪৭ সালে ১৪ আগষ্ট সৃষ্টি হলো পাকিস্থান নামক একটি দেশ। পকিস্থান সৃষ্টির ৭ দিন পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুন শিক্ষক আবুল কাশেমের নেতৃত্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট্য “তমুদ্দুন মজলিস” গঠিত হয় যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে হবে। কিন্তু এ দাবী পাকিস্থানী শাষকগোষ্ঠি প্রত্যাখ্যান করে







১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী পাকিস্থান গণপরিষদে প্রথম অধিবেসনে পূর্ব বাংলার প্রতিনিধি কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দূ ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা কে পরিষদের ব্যবহারিক ভাষা হিসাবে গ্রহনের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিক ভাবে উত্থাপন করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রি লিয়াকত আলী খান এ প্রস্তাবের বিরোধীতা করে বলেন, পাকিস্থান মুসলিম রাষ্ট্র হওয়ার দরূন উর্দূই পাকিস্থান একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হতে পরে। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ গঠিত পূর্ব বাংলা মুসলিম ছাত্রলীগ এক ইস্তেহারে বাংলা ভাষার বিরুদ্বেƒ এরূপ ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ১৯ মার্চ তৎকালীন গর্ভনর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব পাকিস্থান সফরে আসেন। তার তিন দিন পর ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় ঘোষনা করেন, “উর্দূ এবং উর্দূই হবে পাকিস্থানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।” তাৎক্ষনিক ভাবে এ ঘোষনার প্রতিবাদ জানানো হয়। এর ৩ দিন পর ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে একই ঘোষনার পুনরাবৃত্তি করলে উপস্থিত ছাত্ররা এ ঘোষনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং শ্লোগান দেয় “না না বাংলাই হবে পাকিস্থানের রাষ্টভাষা।” ঢাকায় অবস্থান কালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছাত্রদের সাথে ভাষা ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে একাধিকবার বৈঠকে বসে কিন্তু ভাষার প্রশ্নে তিনি আপোষ করতে রাজী হননি।



১৯৫০ সালে পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রি লিয়াকত আলী খান গনপরিষদে পাকিস্থানের ভবিষ্যত সংবিধান সস্পর্কে মূল নীতি কমিটির রিপোর্টে উর্দূকে পাকিস্থানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবী করলে পূর্ব বাংলার জনগন তা প্রত্যাখ্যান করে। এ দিকে ১৯৫১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী বাংলা ভাষাভাষি লোকের সংখ্যা ছিল শতকারা প্রায় ৫৪.৬ ভাগ এবং উর্দূ ভাষাভাষির লোকের সংখ্যা ছিল শতকারা মাত্র ৬ ভাগ। পাকিস্থানি শাসকগোষ্ঠি অন্যায় ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগনের ভাষাকে পদদলিত করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করকে চেয়েছিল।

১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারী তৎকালীন পাকিস্থানের গভর্নর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকার পল্টন ময়দানের এক জনসভায় ঘোষনা দেন, “উর্দূই হবে পাকিস্থানের রাষ্টভাষা।” ফলে ছাত্র-শিক্ষক বুদ্দি¦জীবী মহলে দারুন ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং আন্দোলন তীব্র আকার ধারন করে। আন্দোলনের অংশ হিসাবেই ৩০ জানুয়ারী ঢাকায় সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়ওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। পর দিন ৩১ জানুয়ারী ঢাকার বার লাইব্রেরী হলে কাজী গোলাম মাহাবুব কে আহবায়ক করে আওয়ামী মুসলিমলীগ, যুবলীগ, খিলাফত-ই-রাব্বানী পার্টি, ছাত্রলীগ, ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদের সদস্যদের নিয়ে একটি সর্ব দলীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় “সর্ব দলীয় সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয়। এ সভায় স্থির হয় যে, ২১ ফেব্রুয়ারী প্রদেশব্যাপী “রাষ্ট্রভাষা দিবস” পালন করা হবে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়রী রাষ্ট্রভাষা দিবস কর্মসূচী কে সফল করে তুলার জন্য ৪ ফেব্রুয়ারী হরতাল এবং ১১ ও ১৩ ফেব্রুয়ারী সাফল্যের সাথে “পতাকা দিবস” পালিত হয়। কারাগারে আটক অবস্থায় ১৬ ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রভাষা বাংলা ও রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে শেখ মুজিবর রহমান এবং আওয়ামীলীগ নেতা মহি উদ্দিন আহমেদ আমরন অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। অন্যদিকে “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” ব্যাজ বিক্রি করে ২১ ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের জন্যে ছাত্র-ছাত্রীরা অর্থ সংগ্রহ শুরু করে।
নুরুল আমিনের ক্ষমতাসীন সরকার ২০ ফেব্রুয়ারী এক আকষ্কিক ঘোষনার মাধ্যমে বিকেল থেকে ঢাকা শহরে পরবর্তী একমাসের জন্যে ১৪৪ ধারা জারী করে সকল প্রকার সভা, শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষনা করেন। সংগামী ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে শোভযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।

পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারী তারিখে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ছোট ছোট শোভাযাত্রা সহ ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের পুরানো কলা ভবন প্রঙ্গনে মিলিত হয়। ছাত্র নেতা গাজীউল হকের সভাপতিত্ত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন প্রঙ্গনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে শোভাযাত্রা সহ মায়ের ভাষা বাংলা কে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি পেশ করার জন্য প্রাদেশিক পরিষদ ভবনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে গেটের সশস্র পুলিশ প্রহরা ভেদ করে অসংখ্য দলে দলে বিভক্ত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা শান্তিপূর্ন ভাবে এগিয়ে চলতেে থাকে। মুখে ছিল তাদের একটাই শ্লোগান, “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।” শান্তিপূর্ন এ মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে পৌছালে পুলিশ গুলিবর্ষন সহ নির্বিচারে লাঠিচার্জ শুরু করলে রফিক, শফিক, সালাম, বরকাত ও জব্বার সহ নাম না জানা অনেক তরুন তরুনী নিহত হয় এবং ক’য়েক শ ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়। বাংলার জাতীয় ইতিহাসে রচিত হয় এক রক্তাক্ত অধ্যায়।
৫:০২ PM | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ (২১ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন এর দিন যা ঘটেছিল )



ঢাকা: ২০ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় ঘোষনা আসে পরদিন অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারী ১৪৪ ধারা জারী করা হয়েছে। এদিকে ২১ ফেব্রুয়ারী ছিল সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পূর্ব ঘোষিত হরতাল। হরতালকে প্রতিহত করতেই এই ১৪৪ ধারা জারী করা হয়।


পহেলা ফেব্রুয়ারী থেকেই হরতাল সফল করার প্রস্তুতি নেয়া হয় কিন্তু হঠাৎ করে সরকারের এ ঘোষনার কারনে ছাত্র নেতারা হতাশ হয়ে পড়েন। সে সময় তারা হরতাল বাতিল ও ১৪৪ ধারা না ভঙার সিদ্ধান্ত নেন। রাত ১০ টার দিকে এই সিদ্ধান্তের কথা মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হয়। একই দিকে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কর্মপরিষদের সদস্য নন এমন কয়েকজন নেতা কে জানিয়ে দেয়া হয় যে, রাতেই তৎকালীন ঢাকা হলের পুকুড়ের পূর্ব পাড়ের সিড়িতে জরুরী গোপন বৈঠক হবে।


রাত ১২ টায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন : গাজিউল হক (আইনজীবী), হাবিবুর রমান (বিচার পতি) মোহাম্মদ সুলতান, এম,আর আখতার মুকুল, জিল্লুর রহমান, আব্দুল মোমিন, এস এ বারী, সৈয়দ কামরুদ্দীন হোসেইন শহুদ, আনোয়ারুল হক খান, মঞ্জুর হোসেন ও আনায়ার হোসেন।


বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় পরের দিন আমতলায় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন গাজিউল হক। যদি তিনি গ্রেফতার হন তবে সভাপতিত্ব করবেন এম আর অখতার মুকুল এবং তাকেও যদি গ্রেফতার করা হয় তবে সভাপতিত্ব করবেন কামরু উদ্দীন শহুদ। এ সময় আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, সভাপতি হিসাবে গাজিউল হক ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে বক্তব্য রাখবেন এবং ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে সিদ্ধান্ত জানিয়ে সভার কাজ শেষ করবেন।


২১ ফেব্রুয়ারী
২১ ফেব্রুয়ারী, বৃহস্পতিবার, ১৯৫২ সাল। ২০ ফেব্রুয়ারী রাতে হরতাল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পরদিন সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। শুধু বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়াম মাঠটিতে সকাল থেকে কয়েক হাজার পুলিশ জামায়েত হতে থাকে। সঙ্গে থাকে পুলিশের স্পেশাল টিয়ার গ্যাস স্কোয়াড।


সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট মিছিল এসে জমা হতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে। তখন পর্যন্ত পুলিশ কোন বাধ দেয় নি। চার পাশের বিভিন্ন হলের ছাত্ররা ধীরে ধীরে এসে জমা হতে থাকে। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা দাড়ায় প্রায় ১০ হাজারে। চারদিকে ছাত্র-ছাত্রীদের ’রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগান। পুলিশ তাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে নির্দেশের জন্য অপেক্ষায় ছিল।


এসবের মধ্যেই গাজিউল হককে সভাপতি করে সভা শুরু হয়। প্রথম বক্তব্য রাখেন সর্বদলীয় কর্ম পরিষদেও সদস্য শামসুল হক, তিনি ১৪৪ ধারা না ভাঙার পক্ষে বক্তব্য রাখেন। যদিও তিনি বক্তব্যের শেষে আন্দোলনের প্রতি পূর্ন সমর্থন ব্যক্ত করেন। এরই মধ্যে খবর আসে, লালবাগ এলাকায় স্কুল শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠি চার্জ করছে। ফলে উত্তেজনা তখন চরমে ওঠে।এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক আব্দুল মতিন এবং সভাপতি গাজিউল হক উভয়েই ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে বক্তব্য রাখেন এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। চার দিক কাপিয়ে শ্লোগান ওঠে ১৪৪ ধারা মানি না , মানবো না।


এই শ্লোগান চলার সময় আবদুস সামাদ আজাদ কী ভাবে ১৪৪ ধারা ভাঙা হবে তার একটি প্রস্তাব পেশ করেন। এ প্রস্তাব কে বলা হয় বিখ্যাত ১০ জনী মিছিল। তার মতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী একত্রে মিছিলে নামলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তাই প্রতি দফায় ১০ জন করে রাস্তায় মিছিল বের করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী এ বক্তব্য সমর্থন করেন এবং কলাভবনের গেট খুলে দেয়ার নির্দেশ দেন।


এরপর শুরু হয় ছাত্র-ছাত্রীদের ১০ জনের মিছিল। প্রথম দলের নেতৃত্বে ছিলেন হাবীবুর রহমান (পরবর্তী কালে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচার পতি ও তত্ত্বাবধায়ক প্রধান উপদেষ্টা এবং পরে রাষ্ট্রপিত)। দ্বিতীয় দলে ছিলেন আবদুস সামাদ আজাদ ও ইব্রাহীম তাহা। তৃতীয় দলে আনোয়ারুল হক খান এবং আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান। এই ১০ জনের মিছিলে যারা গ্রেফতার হচ্ছিল তাদের তালিকা তৈরীর দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান এবং কাজী আজাহার। চতুর্থ দফায় মেয়েদের একটি মিছিল স্বেচ্ছায় কারাবরনের উদ্দেশ্যে রাস্তায় নেমে আসার পরপরই ছাতদের অনেক গুলো মিছিল একে একে বের হয়ে আসতে শুরু করে।


এমন সময় পুলিশ আকস্মিক ভাবে মিছিলের উপর লাঠিচার্জ ও অবিরাম কাদানো গ্যাস নিক্ষেপ করতে শুরু করে। কাদানো গ্যাসের ধোয়ায় ছেয়ে যায় চাদিক। ছাত্ররা দৌড়ে কলা ভবনের পুকুড়ে এসে রোমাল ভিজিয়ে চোখ মুছে আবার মিছিলে যোগ দেয়। এমনি সময়ে একটি টিয়ারশেল সরাসরি গাজিউল হকের বুকে এসে আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোতলায় মেয়েদের কমন রুমে তাকে রেখে আসা হয়। বেলা প্রায় ২টা কলাভবন এলাকায় ছাত্র-পুলিশ সংঘর্স চলতে থাকে।


তখ নপর্যন্ত ঢাকার অন্যান্য স্থানে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও বিশ্বদ্যিালয় এলাকায় একদিকে চলতে থাকে পুরিশের লাঠিচার্জ আর আরেক দিকে ছাত্রদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। এ পরিস্থিতে ছাত্ররা যতায়তের সুবিধার জন্য কলা ভবন ও মেডিকের কলেজ হাসপাতালের মধ্যবর্তী দেয়াল ভেঙে দেয়। ফলে কিছুক্ষনের মধ্যেই পুলিমের সঙ্গে ছাতদের সংঘর্ষের দিক পরিবর্তিত হয়। ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে সংঘর্ষ। এ সময় পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচর্জে আহত হন বহু ছাত্র।


এমনই সময় কোন পূর্ব সংকেত ছাড়াই সশস্র পুলিশ জেলা মেজিস্ট্রেট কোরেশির নির্দেশে দৌড়ে এসে জগন্নাথ হল প্রাঙ্গনে অবস্থান নিয়ে গুলি ফায়ার করে। চারদিকে টিয়ার গ্যাসের ধোয়ার ভেতর কিছু বুঝে ওঠার আগেই কিছু তাজা পাণ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল, অনেক আহত হয়, বাকিরা বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। তখন সময় বেলা ৩ টা ১০মিনিট আর দিনটি ২১ ফেব্রুয়ারী, বৃহস্পতিবার।


একটি লাশের মাথার অর্ধেকটাই গুলিতে ্্উড়ে যায়। পরে যানা যায়, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আবুল বরকত। সে সময় পর্যন্ত ঘটনাস্থলে নিহতের সংখ্যা ছিল ২ এবং আহত ৯৬। সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে মারা যান আরো দুজন। এরা হলেন শহীদ জব্বার ও রফিক উদ্দিন।


২১ ফেব্রুয়ারীর গুলিবর্ষনে শহীদ হওয়া ৪ জনের মধ্যে তিনজন ছাত্র। এরা হলেন বরকত, জব্বার, ও রফিক উদ্দিন। আপর জন শহীদ সালাম যিনি বাদামতলী একটি প্রেসের কর্মচারী ছিলেন। তাছাড়া অহিউল্লাহ নামে ৯ বছরের একটি শিশু পুলিশের গুরিতে মারা যায়।


উল্লেখ্য, অব্দুস সালাম ২১ ফেব্রুয়ারী ১৪৪ ধারা ভঙের মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিমের গুলিতে আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একমাসসের অধিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর ১৯৫২ সালের ১৭ এপ্রিল তিনি মারা যান।


ছাত্রদে মিছিলে পুলিশের গুরিবর্ষনের ঘটনা ঢাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার সাধারণ জনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে জড়ো হতে থাকে। গুলি বর্ষনের সংবাদ আইন পরিষদে পৌছালে ধীরৈন্দ্র নাথ দত্তের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলার ছয় জন আইন পরিষদ সদস্য আইন পরিষদ মূলতবী করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে আহত ছাত্রদের দেখতে যাবার জন্য নুরুল আমীনকে অনুরোধ করেন। সরকারী দলের সদস্য আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশও এই প্রস্তাবের সপক্ষে উচ্চকন্ঠ হন। কিন্তু নূরুল আমীন সকল দাবি উপেক্ষা করে আইন পরিষদের অধিবেশন চালানোর নির্দেশ দেন। এর প্রতিবাদে পূর্ব বাংলার সদস্যরা পরিষদ ওয়াক আউট করেন। রাতের বেলা ছাত্র নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে ঢাকা শহরের প্রতিটি মসজিদে ও কাবে পরদিন সকালে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়েত হবার আহবানসম্বলিত লিফলেট বিলি করা হয়। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারী করে সকল সভা- সমাবেশ নিষিদ্ধ করে।






সূত্র: লেখাটি এম আর আখতার মুকুল রচিত একুশের দলিল বই থেকে সংকলিত।
৪:৪৪ PM | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

একুশের ৬০ বছরে ৬ ভাষাসংগ্রামী - প্রথম আলো



ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছরপূর্তি উপলক্ষে প্রথম আলোর আমন্ত্রণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্মৃতিচারণ করে
ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছরপূর্তি উপলক্ষে প্রথম আলোর আমন্ত্রণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্মৃতিচারণ করেন ছয় ভাষাসংগ্রামী (বাঁ থেকে) আহমদ রফিক, সাঈদ হায়দার, হালিমা খাতুন, আবদুল মতিন, সুফিয়া আহমেদ ও মুর্তজা বশীর
ছবি: প্রথম আলো
গাড়ি দুটি যখন শহীদ মিনারের সামনে এসে থামল, তখন বেলা সাড়ে এগারোটা। আকাশ মেঘলা। যেন ভাষাসংগ্রামীদের প্রতি ছায়ার সুশীতল পরশ দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে প্রকৃতি।
গাড়ি থেকে নামলেন ছয়জন—আবদুল মতিন, সাঈদ হায়দার, আহমদ রফিক, হালিমা খাতুন, মুর্তজা বশীর ও সুফিয়া আহমেদ। ভাষা আন্দোলনের ষাট বছর পর এখানে আবার তাঁরা একসঙ্গে। সে কথাই বললেন আহমদ রফিক, ‘ভালো লাগছে। ষাট বছর পর সহযাত্রী অনেককে কাছে পেয়ে ভালো লাগাটাই স্বাভাবিক। এখানেই আমরা শুরু করেছিলাম, এখানেই ফিরে এলাম, তারপর কোথায় যাওয়া, জানা নেই।’
আশির বেশি বা কাছাকাছি বয়সের ছয়জন মানুষকে দেখে পথচারী কেউ কেউ থমকে দাঁড়ায়। অনুমান করার চেষ্টা করে তাঁদের পরিচয়। তারপর কাছে আসে। ছোট একটা নীরব জটলা সৃষ্টি হয় ভাষাসংগ্রামীদের সামনে। ভাষা মতিনের কাছেই আমাদের জানতে চাওয়া, ‘আপনাদের স্বপ্ন কত দূর সফল হয়েছে? কত দিন পর আপনারা একসঙ্গে হলেন?’
‘মাঝে মাঝে কারও কারও সঙ্গে দেখা হয়। মূলত এই ভাষার মাসে। তবে জনগণের সঙ্গে একাত্ম হওয়াটা জরুরি। সব আশা তো পূরণ হয় না। যা হয়, তা অতি সামান্য। এখন একটু একটু করে হলেও কিছু কাজ হচ্ছে, সেটুকুই সান্ত্বনা। না হলেই বা কী করতাম!’
একই প্রশ্নের জবাবে আহমদ রফিক বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪০ বছরে দেশের যে পরিবর্তন হওয়া উচিত ছিল, তার পুরোটা হয়নি, বলব, আংশিক পরিবর্তন হয়েছে। এখনকার যারা তরুণ, তাদের ওপর আমাদের ভরসা, তাদের ওপরই এই সামাজিক দায়বদ্ধতা, তারাই বাকি কাজটুকু করবে। এটাই আমার প্রত্যাশা।’
সুফিয়া আহমেদ বললেন, ‘৬০ বছর পর মনে হচ্ছে, আমাদের ভাগ্য ভালো, এখনো বেঁচে আছি। আমি তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতাম। দেখেছি, পড়াশোনার মান কমে যাচ্ছে।’
আলোচনাটি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির দিকে মোড় নেয় কিছুক্ষণের জন্য। হালিমা খাতুনের কণ্ঠে যেন তারই ইঙ্গিত, ‘যখনই এখানে আসি, তখনই সেদিনের কথা মনে পড়ে। কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এসেছিলাম সেই সভায়। ‘চলো চলো অ্যাসেমব্লি চলো’ স্লোগানটা এখনো কানে লেগে রয়েছে। আমরা রাষ্ট্রভাষা পেয়েছি, স্বাধীনতা পেয়েছি। অনেক সম্পদের মালিক এখন আমরা। কিন্তু মনে হচ্ছে, মানুষের মধ্যে একুশের চেতনা সেভাবে নেই। রাজনীতি কলুষিত হয়ে গেছে, অর্থনীতিও অমাবস্যায় ঢেকে গেছে। এগুলো সুস্থ করতে হলে মানুষকে সুস্থ করতে হবে আগে। মানবিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে। নইলে একুশে ফেব্রুয়ারি আসবে-যাবে, অনেক অঙ্গীকার করা হবে, কিন্তু কাজ কিছুই হবে না।’
মুর্তজা বশীরের কণ্ঠেও কি হতাশার সুর? তিনি বলছেন, ‘আমি একাত্তর সাল পর্যন্ত শহীদ মিনারে আসতাম। এরপর আর আসি না। এখানে এলে মনে হয় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছি। মনে হয়, এখানে ভাষাশহীদ বরকত-জব্বার-শফিকেরা আমার বিচার করছেন। যে কারণে তাঁরা আত্মোৎসর্গ করলেন, আমরা যে শপথ বা অঙ্গীকার করলাম, তা থেকে কতটা সরে গেছি, সেটা যখন মনে হয়, তখন নিজেকে কাপুরুষ ছাড়া আর কিছু মনে হয় না। যে কারণে তাঁরা জীবন দান করেছিলেন, সেই আর্থসামাজিক মুক্তি এখনো হয়নি।’
সাঈদ হায়দার অবশ্য অতটা নিরাশাবাদী নন। বললেন, ‘কিছু যে হয়নি, তা নয়। পাকিস্তান আমলেই রাষ্ট্রভাষা বাংলা হয়েছে, তবে তা নামকাওয়াস্তে। দেশ স্বাধীন হওয়ার বীজ প্রোথিত হয়েছিল বায়ান্ন সালে। আন্দোলনের পর আন্দোলন করে পাকিস্তানিদের পরাজিত করেছি আমরা। তার পরও সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন হয়নি। স্বাধীন হওয়ার পর সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে অনেক কিছুই বাংলা হয়েছিল। আমাদের আন্দোলনটা তো শুধু ভাষার আন্দোলনই ছিল না, তার সঙ্গে সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যাপারও ছিল। আজকের তরুণ আমাদের প্রশ্ন করে, একটা অস্থিরতার মধ্যে আমাদের রেখে চলে যাচ্ছেন? তাদের উত্তর দিই, আমরা কি তোমাদের কিছুই দিয়ে যাইনি?’
স্মৃতিতে একুশের অ্যালবাম
যে তরুণ-তরুণীরা এতক্ষণ একটু দূরে দাঁড়িয়ে কথা শুনছিল, তারা এবার এগিয়ে আসে। একজন প্রশ্ন করে, ‘কোথায় গুলি চলেছিল, আপনারা কি একটু বলবেন?’
এবার তাঁরা যেন ফিরে যান ১৯৫২ সালে। স্মৃতিতে জমা হওয়া একুশের অ্যালবামটি খুলে ধরেন ওদের সামনে। সকালে আমতলার সভা, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার কথা বলেন।
সাঈদ হায়দার: বায়ান্ন সালে আন্দোলন যখন তুঙ্গ পর্যায়ে, তখন মেডিকেল ব্যারাক থেকেই আন্দোলন পরিচালনা করা হয়েছিল। চার একর জমির ওপর ২০টা ব্যারাক ছিল। প্রতিটা ব্যারাকে পাঁচটা করে ঘর ছিল, কোনোটায় ছয়টা করে।
আহমদ রফিক: বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় ছিল, মেডিকেল কোথায় ছিল, গণপরিষদ কোথায় ছিল, তার কি কোনো অস্তিত্ব আছে এখন? ফলক তৈরি করতে কয় টাকা লাগে?
সুফিয়া আহমেদ: আমরা তিন-চার বছর আগে সরকারকে বলেছি শহীদ মিনারকে সংরক্ষিত এলাকা করতে। জনগণ এখানে আসবে, কিন্তু তারও একটা নিয়ম থাকবে। এটা কিন্তু পবিত্র স্থান।
আহমদ রফিক: শোনো, গুলি কোথায় হয়েছিল এই বরাবর যদি তাকাও, তাহলে দেখবে রাস্তার দুপাশেই ব্যারাক ছিল। তিনি হাত দিয়ে দেখান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরের দিকে। বলেন, ‘গেট দিয়ে ঢুকতেই ১২ নম্বর ব্যারাক ছিল ডান দিকে। তার সামনে বরকত গুলিবিদ্ধ হন। লম্বালম্বি এই দিকটায় ছিল ২০ নম্বর ব্যারাক, এর সামনে আবদুল জব্বার গুলিবিদ্ধ হন। আরেকটু সামনে এখন যে মেডিকেল গেটটা, এর মাঝামাঝি জায়গায় ১৪ নম্বর ব্যারাকের সামনে রফিকের শরীরে গুলি লাগে। তারও সামনে ৬ নম্বর ব্যারাকের কাছে সালাম গোড়ালিতে গুলিবিদ্ধ হন। এখানে দুটি রাস্তা ছিল—সেক্রেটারিয়েট রোড আর ফুলার রোড। এখনকার জগন্নাথ হলের জায়গাটায় ছিল পরিষদ ভবন।’
সুফিয়া আহমেদ: এখন যেটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, সেখানেই ছিল আমতলা। সেই গেটেই ব্যারিকেড ছিল। সেখান দিয়েই আমরা বের হয়েছিলাম। সেখানে এখনো ফলক নেই।
সাঈদ হায়দার: হামিদুর রহমান যে পরিকল্পনাটি করেছিলেন, সেই পরিকল্পনায় অনেক কিছু ছিল। একটা জাদুঘরও ছিল। কিন্তু সেটা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
যোগসূত্রের সন্ধানে
আবদুল মতিন: আমরা এখনকার তরুণদের জানি না, তারাও আমাদের জানে না। আমাদের মধ্যে যোগসূত্র নেই।
হালিমা খাতুন: ইতিবাচক চেষ্টাটা থাকতেই হবে। তরুণদের ক্লাস নেওয়ার সময় সেই ইতিবাচক দিকগুলো জানাতে হবে। সেভাবেই সমাজটাকে গড়ে তুলতে হবে। ওদের শেখাতে হবে। যিনি শেখাবেন, তাঁকেও শেখাতে হবে।
মুর্তজা বশীর: বাঙালি জাতির অহংকারকে আমরা শিক্ষার বিষয় করে তুলিনি। আমাদের পাঠ্যক্রমেও জাতির অহংকার নিয়ে লেখা থাকতে হবে। তাহলেই কেবল শিশুরা বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি নিয়ে জানবে।
সময় গড়িয়ে যেতে থাকে। ফাগুনের লাল পলাশ-শিমুল-কৃষ্ণচূড়ায় বাতাস এসে দোল দিয়ে যায়। একটু একটু বৃষ্টি শুরু হয়। উপস্থিত তরুণদের কাছ থেকে বিদায় নেন ভাষাসংগ্রামীরা। এবার তাঁদের চলার পথ সহজ করে দিতে এই তরুণদেরই কেউ কেউ তাঁদের হাত ধরে। ভাষাসংগ্রামীদের একজন বলেন, ‘আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার দরকার নেই।’
ওরা বলে, ‘আসলে আমরা আপনাদের একটু স্পর্শ চাই। স্পর্শ।’
এভাবেই বুঝি তৈরি হয় যোগসূত্র।

ভাষাসংগ্রামীদের পুরো আলোচনাটি পড়ুন ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ এর প্রথম আলোর ছুটির দিনে ম্যাগাজিনে


প্রকাশিত - প্রথম আলো
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-02-21/news/226614
৪:১৫ PM | 0 মন্তব্য(গুলি) | Read More

 

Published by Mujibnagar | Contact Us | Bagladesh Company | Bangladesh History | Bagladesh Tech | Famous Bengali Personality